Nov 20, 2011

ডাউনলোড করুন হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড-এর ১১ টি বই !

স্যার হেনরি রাইডার হ্যাগার্ড -এর ১১ টি [সেবা অনুবাদ] বইয়ের কালেকশান ! :) B-)
ডাউনলোড করুন আপনার পছন্দের বইটি। আশা করি সবার ভালো লাগবে ।
আমার এই পোস্টে কয়েকজন ব্লগার ভাই বইগুলি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন । আমার কাছে তার এগারোটি বই ছিলো । সবার সুবিধার্থে বইগুলি মিডিয়াফায়ারে আপলোড করে দিলাম ।
উনার সম্পর্কে জানতে এই পোস্টটি পড়ে দেখতে পারেন > স্যার হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের জীবনী
বইয়ের লিস্ট ও ডাউনলোড লিংকঃ
[১] মন্টেজুমার মেয়েঃ – ডাউনলোড
[২] শীঃ – ডাউনলোড
[৩] রিটার্ন অব শীঃ – ডাউনলোড
[৪] কিং সলোমনের গুপ্তধনঃ - ডাউনলোড
[৫] দ্য ভার্জিন অব সানঃ – ডাউনলোড
[৬] কুইন শেবা’স রিং (রানী শেবার আংটি)ঃ – ডাউনলোড
[৭] মিস্টার মিসনস উইলঃ - ডাউনলোড
[৮] মুন অব ইজরায়েলঃ - ডাউনলোড
[৯] মাইওয়ার প্রতিশোধঃ - ডাউনলোড
[১০] ব্রেদরেনঃ – ডাউনলোড
[১১] বেনিটাঃ – ডাউনলোড
মিডিয়াফায়ার ফোল্ডারঃ এখানে ক্লিক করুন

http://www.somewhereinblog.net/blog/ondhokarer_rajputra/29479473

টিনটিন


ছেলেটার মা-বাবা নেই। একা থাকে একটা বাড়িতে। সঙ্গী বলতে স্নোয়ি নামের একটা কুকুর আর দুই বন্ধু ক্যাপ্টেন হ্যাডক ও প্রফেসর ক্যালকুলাস। আর বয়স? কেউ বলে ১৪-১৫, কেউ ১৭। বাড়ি? প্রথম দিকে জানতাম, ও বেলজিয়াম থেকে এসেছে। কিন্তু ও নিজে তো বলতেই চায় না বাড়ির কথা। অত সময়ই নেই। অতটুকুন ছেলে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াতেই বেশি ব্যস্ত। অ্যাডভেঞ্চার ছাড়া থাকতেই পারে না। একমাত্র কাজ হলো সাংবাদিকদের মতো খবর খুঁজে বের করা। রহস্যের কিনারা করতেই সময় পার করে বেশি। এর ওপর আবার পারে না এমন কোনো কাজই নেই। মোটরসাইকেল, গাড়ি, এমনকি বিমান-হেলিকপ্টারও চালায়! কাউকে ডরায় না। মন্দ লোকের খপ্পরে পড়লে মারামারি করতেও ছাড়ে না। ওহহো, ছেলেটার নামই তো বলা হয়নি। বাড়ির ঠিকানা না থাকুক, তার একটা নাম কিন্তু আছে। টিনটিন। পাক্কা ৮২ বছর ছেলেটা দৌড়ে বেড়িয়েছে কমিকের পাতায়। সেই ১৯২৯ সাল থেকে! একফোঁটা বড় হয়নি কিন্তু! এখনো একেবারে ছটফটে কিশোর।
টিনটিনের স্রষ্টা

সবাই তাঁকে চেনে Hergé (হার্জে) নামে। এটা কিন্তু ভদ্রলোকের আসল নাম নয়, ছদ্মনাম। মা-বাবা তাঁর নাম দিয়েছিলেন Georges Prosper Remi (জর্জ প্রসপার রেমি)। বেলজীয় এই শিল্পী বালক বয়সেই যোগ দিয়েছেন বয় স্কাউটে। স্কাউটিং করার সময় আসলে জর্জের ভবিষ্যৎ জীবনের চিন্তাভাবনাটা একেবারে বদলে যায়। এমনকি এটাও বলা হয়ে থাকে, তাঁর অমর সৃষ্টি টিনটিনের চরিত্রেও বয় স্কাউটের ছাপ পাওয়া যায়। স্কাউটিংয়ের সূত্র ধরেই বলা যায় জর্জের আঁকাআঁকির সূত্রপাত। ‘লে বয় স্কাউট বেলাজ’ নামের একটা স্কাউটিং ম্যাগাজিনে নিয়ে আসেন ‘টোটোর’ নামের কার্টুন চরিত্র। এটিকে বলা যায় টিনটিনের পূর্বসূরি। তবে এ চরিত্রটি তেমন একটা বিকশিত হতে পারেনি। কেননা বেলজিয়ামের সে সময়কার স্বনামধন্য এক পত্রিকার সম্পাদক তাঁকে সে পত্রিকায় কাজ করতে বললেন। জর্জকে সে পত্রিকার তরুণদের পাতা দেখার দায়িত্ব দেওয়া হলো। ‘লে পিটিট ভিংটিমে’ নামের ওই পাতায় ১৯২৯ সালের ১০ জানুয়ারি আবির্ভাব হয় দুঁদে গোয়েন্দা টিনটিনের। আর সেটা ছিল টিনটিনের রুশদেশে অভিযান। প্রথম অভিযানেই দারুণ জনপ্রিয় হয় টিনটিন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর টিনটিন তার ইচ্ছামতো অভিযান করা শুরু করে। তখন জর্জ টিনটিন ম্যাগাজিন প্রকাশ করা শুরু করেন। এতে টিনটিনের জনপ্রিয়তা আরো বাড়তে থাকে।
১৯৫০ সালের দিকে জর্জ নিজের স্টুডিও করেন। তিনি ছিলেন কাজপাগল লোক। তাই বলে একা সব কাজ করা সম্ভব? পুরনো ও সাদাকালো টিনটিনগুলো আবার নতুন করে আঁকা আর রঙিন করার কাজ চলছিল। তাঁর সঙ্গে যোগ দিলেন বব ডি মুর, জ্যাকুয়েস মার্টিন, রজার লিলুপ ও এডগার পি জ্যাকবস। পরে তাঁরা নিজেরাই আলাদা কমিক সিরিজ চালু করেছিলেন।
টিনটিনের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের চাপও বাড়ছিল। আর এই অতিরিক্ত চাপ জর্জকে বিষাদগ্রস্ত করে ফেলে। তাঁর করা শেষ টিনটিন হচ্ছে ‘টিনটিন অ্যান্ড দ্য পিকারোস’। এটি প্রকাশের ৯ বছরের মাথায়, অর্থাৎ ১৯৮৩ সালে মারা যান বিখ্যাত এই শিল্পী।
টিনটিনের বইগুলো

হার্জে টিনটিনের ২৪টি বই লেখেন। তবে শেষের বইটা শেষ করে যেতে পারেননি। বইগুলো হচ্ছে-
১. Les Aventures de Tintin, reporter du “Petit Vingtième”, au pays des Soviets (1929–1930, 1930)
Tintin in the Land of the Soviets
সোভিয়েত দেশে টিনটিন
২.Tintin au Congo (1930–1931, 1931, 1946)
Tintin in the Congo
কঙ্গোয় টিনটিন
৩. Tintin en Amérique (1931–1932, 1932, 1945)
Tintin in America
আমেরিকায় টিনটিন
৪. Les Cigares du pharaon (1932–1934, 1934, 1955)
Cigars of the Pharaoh
ফারাওয়ের চুরুট
৫. Le Lotus bleu (1934–1935, 1936, 1946)
The Blue Lotus
নীলকমল
৬. L’Oreille cassée (1935–1937, 1937, 1943)
The Broken Ear
কানভাঙা মূর্তি
৭. L’Île Noire (1937–1938, 1938, 1943, 1966)
The Black Island
কৃষ্ণদ্বীপের রহস্য
৮. Le Sceptre d’Ottokar (1938–1939, 1939, 1947)
King Ottokar’s Sceptre
ওটোকারের রাজদণ্ড
৯. Le Crabe aux pinces d’or (1940–1941, 1941, 1943)
The Crab with the Golden Claws
কাঁকড়া-রহস্য
১০. L’Étoile mystérieuse (1941–1942, 1942)
The Shooting Star
আশ্চর্য উল্কা
১১. Le Secret de la Licorne (1942–1943, 1943)
The Secret of the Unicorn
বোম্বেটে জাহাজ
১২. Le Trésor de Rackham le Rouge (1943, 1944)
Red Rackham’s Treasure
লাল বোম্বেটের গুপ্তধন
১৩. Les 7 boules de cristal (1943–1946, 1948)
The Seven Crystal Balls
মমির অভিশাপ
১৪. Le Temple du Soleil (1946–1948, 1949)
Prisoners of the Sun
সূর্যদেবের বন্দি
১৫. Tintin au pays de l’or noir (1948–1950, 1950, 1971)
Land of Black Gold
কালো সোনার দেশে
১৬. Objectif Lune (1950–1953, 1953)
Destination Moon
চন্দ্রলোকে অভিযান
১৭. On a marché sur la Lune (1950–1953, 1954)
Explorers on the Moon
|চাঁদে টিনটিন
১৮. L’Affaire Tournesol (1954–1956, 1956)
The Calculus Affair
ক্যালকুলাসের কাণ্ড
১৯. Coke en stock (1956–1958, 1958)
The Red Sea Sharks
লোহিত সাগরের হাঙর
২০. Tintin au Tibet (1958–1959, 1960)
Tintin in Tibet
তিব্বতে টিনটিন
২১. Les Bijoux de la Castafiore (1961–1962, 1963)
The Castafiore Emerald
পান্না কোথায়
২২. Vol 714 pour Sydney (1966–1967, 1968)
Flight 714
ফ্লাইট ৭১৪
২৩. Tintin et les Picaros (1975–1976, 1976)
Tintin and the Picaros
বিপ্লবীদের দঙ্গলে
২৪. Tintin et l’alph-art (1986, 2004)
Tintin and Alph-Art
আলফাকলা ও টিনটিন
ডাউনলোড- English Version , বাংলা ভার্সন
টিনটিনের উল্লেখযোগ্য চরিত্র
Tintin
টিনটিন
খুদে সাংবাদিক। অ্যাডভেঞ্চার অব টিনটিন সিরিজের নায়ক। একজন রিপোর্টার আর অভিযানপ্রিয় মানুষ। দুনিয়ার অনেক দেশে নানা অভিযানে অংশ নিয়েছে। প্রথম দিকে টিনটিনের মডেল হিসেবে ছোট ভাই পল রেমিকে বেছে নিয়েছিলেন হার্জে। পল ছিল একজন সৈনিক। শেষে পলকে দাঁড় করালেন খল চরিত্র কর্নেল স্পঞ্জ হিসেবে। ভিলেন স্পঞ্জের দেখা মেলে ক্যালকুলাসের কাণ্ডে। এরপর টিনটিন হিসেবে ভাবতে থাকেন অভিনেতা পল হাডকে। এরও পরে আরো অনেককেই টিনটিনের মডেল হিসেবে কল্পনা করেন হার্জে। তবে শুরুটা করেছিলেন ছোট ভাই পলকে দিয়ে।

Milou
Snowy
স্নোয়ি
ফরাসি নাম মিলোউ। স্নোয়ি হচ্ছে ওয়াইর ফঙ্ টেরিয়ার জাতের কুকুর। সাদা। ওর সব অভিযানের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। দুজনের বন্ধুত্ব গভীর। দুজনই একে অন্যকে বহুবার রক্ষা করেছে।

chevalier de Hadoque
Captain Archibald Haddock
ক্যাপ্টেন হ্যাডক
সিরিজের নবম বই ক্র্যাব উইথ দ্য গোল্ডেন ক্লস বা কাঁকড়া-রহস্য নামের বইতে পাঠকের সঙ্গে পরিচয় হয় রগচটা, উন্নাসিক ও খিটখিটে স্বভাবের নাবিক ক্যাপ্টেন হ্যাডকের সঙ্গে। পুরো নাম ক্যাপ্টেন আর্চিবল্ড হ্যাডক। টিনটিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তবে মদ খেয়ে সব সময় মাতাল হয়ে থাকে।

Tchang Tchong-Jen
Chang Chong-Chen
চ্যাং চ্যাং-চেন
চ্যাং চ্যাং-চেনের প্রথম আগমন ঘটে ১৯৩৬ সালে দ্য ব্লু লোটাস বা নীলকমল বইতে। টিনটিন আর চ্যাং ছিল বন্ধু। খুব অল্প সময়ের পরিচয়েও গভীর বন্ধুত্ব হয়েছিল। বিদায়ের সময় দুজনের চোখেই ছিল পানি। মজার ঘটনা হলো, ঝ্যাং চংগ্রেন নামের এক বন্ধু ছিল হার্জের। সেই বন্ধুর অনুকরণেই সৃষ্টি করেছেন চ্যাং চ্যাংকে।

Professeur Tryphon Tournesol
Professor Cuthbert Calculus
প্রফেসর ক্যালকুলাস
ভুলোমনা প্রফেসর। পুরো নাম প্রফেসর কাথবার্ট ক্যালকুলাস। কানে কম শোনেন। তিনি বেশ কিছু জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার করেছেন, যেগুলো টিনটিনের অভিযানে কাজে লেগেছে; যেমন_শার্ক আকারের সাবমেরিন, চাঁদের রকেট, আলট্রাসাউন্ড অস্ত্র ইত্যাদি। ক্যালকুলাসের প্রথম আগমন ঘটে রেড রকম্যানস ট্রেজার বা লাল বোম্বেটের গুপ্তধন নামের বইতে।

Dupont et Dupond
Thomson and Thompson
থম্পসন এবং থম্পসন
মূল ফরাসিতে এদের নাম দুঁপো এ দুঁপো। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের আনাড়ি গোয়েন্দা। কথা বলার সময় ওলটপালট করে ফেলত শব্দ। তাদের কাজের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। হরহামেশাই নানা দুর্ঘটনায় পড়ত। আর বেশির ভাগ সময় টিনটিনকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করত। তাদের প্রথম আগমন ঘটে সিগারস অব দ্য ফারাও বা ফারাওয়ের চুরুট বইতে।

Bianca Castafiore
বিনাকা ক্যাস্টাফিওর
মিলানের নাইটিঙ্গেল নামে তাঁর খ্যাতি। খুব মিষ্টি গলা। প্রফেসর ক্যালকুলাসের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কোথাও গেলে সঙ্গে থাকত পিয়ানোবাদক ইগর ওয়াগনার ও চাকরানি ইরমা। প্রথম তার দেখা মেলে কিং অটোকারস স্ক্যাপচার বা ওটোকারের রাজদণ্ড বইতে।

Nestor
নেস্টর
ক্যাপ্টেন হ্যাডকের খানসামা নেস্টর। সে সৎ, বিশ্বস্ত ও অনুগত। আবার ঘরকুনো। ঘরে থেকে মনিবের দেখাশোনা করাই তার ব্রত। একজন চাকরের যে ধরনের গুণ থাকা দরকার, সবই আছে তার। প্রথম তার দেখা মেলে সেকরেট অব দ্য ইউনিকর্ন বা বোম্বেটে জাহাজ বইতে।
খলনায়ক যারা

Roberto Rastapopoulos
রবার্তো রাস্তাপপুলাস
খুব ধনী রাস্তাপপুলাস। তার একটা মেকি নাম আছে_মার্কুইস ডি গরজনজোলা। টিনটিনের জাত শত্রু রাস্তাপপুলাসের প্রথম দেখা মেলে সিগারস অব দ্য ফারাও বা ফারাওয়ের চুরুট বইতে। আর টিনটিনের সঙ্গে প্রথম দেখা হয় নৌকায়। রাস্তাপপুলাস তখন বেশ রাগান্বিত হয়ে টিনটিনকে বলেছিল, ‘এটাই আমাদের শেষ দেখা নয়, আরো দেখা হবে।’ যদিও কোনো কোনো জায়গায় টিনটিনকে সাহায্যও করেছিল। নানা দুষ্কর্মের জন্য বিখ্যাত সে। পয়সার জন্য করতে পারত না, এমন কোনো কাজ নেই। মাদক ব্যবসা, চোরাচালান, অপহরণ, মানুষ বেচাকেনা_সব করেছে সে।

Allan Thompson
অ্যালান থম্পসন
ক্যাপ্টেন হ্যাডকের সহকর্মী। তবে একসময় সে জড়িয়ে পড়ে চোরাচালানসহ নানা ধরনের অপকর্মে। সে ছিল রাস্তাপপুলাসের সহযোগী। তবে দ্য ক্র্যাব উইথ দ্য গোল্ডেন ক্লজ বা কাঁকড়া-রহস্যে সে কাজ করেছিল ওমর বিন সালিদের হয়ে।

Colonel Jorgen
কর্নেল জর্জেন
পুরো নাম কর্নেল বরিস জর্জেন। তবে কখনো এই নাম ব্যবহার করা হয়নি। সিলাদাভিয়া আর্মির সৈনিক। ছোট ছোট চুল, এক চোখে পট্টি বাঁধা। টিনটিনের গোপন শত্রু ছিল সে। টিনটিনের সঙ্গে তার প্রথম দেখা হয় ওটোকারের রাজদণ্ডে। দুষ্ট জর্জেন এঙ্প্লোরারস অন দ্য মুন বা চাঁদে টিনটিনে বড্ড ভুগিয়েছিল টিনটিনকে। একটা দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালে মহাশূন্যেই ফেলে রেখে আসা হয়েছে তাকে।

Colonel Sponsz
কর্নেল স্পঞ্জ
কালো চুলের কর্নেল স্পঞ্জ ছিল জহদের পুলিশ বিভাগের প্রধান। আর বরদুরিয়ার পুলিশের গুপ্তচর বিভাগের প্রধান। ক্যালকুলাস অ্যফেয়ার্স বা ক্যালকুলাসের কাণ্ডে তার প্রথম আগমন।

Doctor Krollspell
ডাক্তার ক্রলসপেল
ডাক্তার ক্রলসপেল ছিল রাস্তাপপুলাসের একজন সহযোগী। ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত ফ্লাইট ৭১৪ নামের বইতে তার প্রথম আবির্ভাব। কেউ কেউ মনে করেন, সাবেক নাৎসি বিজ্ঞানী জোসেফ ম্যাঙ্গেলের অনুকরণেই হার্জে ক্রলসপেলকে সৃষ্টি করেছেন। নাৎসি জোসেফ এতই ভয়ানক ছিল যে তার উপনাম ছিল অ্যাঞ্জেল অব ডেড।

General Tapioca
জেনারেল ট্যাপিওকা
টিনটিনের বন্ধু জেনারেল অ্যালকাজারের শত্রু হচ্ছে জেনারেল ট্যাপিওকা। অ্যালকাজার আর ট্যাপিওকা দুজনই ছিল সাউথ আমেরিকান রিপাবলিক আর্মির জেনারেল। সব সময় দুষ্ট চিন্তা করত। সবাইকে বিপদে ফেলতে পারলেই যেন তার শান্তি। মেজাজটাও ছিল বেশ উগ্র।
অন্যান্য চরিত্রগুলো-
Alfredo Topolino
Alonso Perez and Ramon Bada
Aristides Silk
Arturo Benedetto Giovanni Giuseppe Pietro Arcangelo Alfredo Cartoffoli da Milano
Bab El Ehr
Balthazar’s Parrot
Bobby Smiles
Captain Chester
Chiquito
Christopher Willoughby-Drupe and Marco Rizotto
Corporal Diaz
Cutts the Butcher
Doctor J. W. Müller
Doctor Patella
Endaddine Akass
Frank Wolff
General Alcazar
Huascar
Igor Wagner
Irma
Ivan Ivanovitch Sakharine
J. M. Dawson
Jolyon Wagg
King Muskar XII
Krônik and Klûmsi
Kûrvi-Tasch
Laszlo Carreidas
Mik Kanrokitoff
Miller
Mitsuhirato
Mohammed ben Kalish Ezab and Abdullah
Mr. Bohlwinkel
Mr. Bolt
Oliveira de Figueira
Omar Ben Salaad
Pablo
Paolo Colombani
Philippulus
Piotr Skut
Professor Decimus Phostle
Professor Hector Alembick
Puschov
R. W. Trickler
Rascar Capac
Red Rackham
Ridgewell
Sanders-Hardiman Expedition members
Sir Francis Haddock
Sophocles Sarcophagus
Spalding
Tharkey
The Arumbayas
The Bird brothers
The Fakir
The Sondonesians
Tintin’s Double
W. R. Gibbons
Wang Chen-Yee
Zorrino
ব্রাসেলসের স্টকাল মেট্রো স্টেশনের ১৩৫ মিটার দেয়ালের দুই পাশেই দেখা যাবে টিনটিন থেকে উঠে আসা এসব চরিত্র। কেউ দৌড়াচ্ছে, কেউ হাঁটছে, কেউ দাঁড়িয়ে আছে। মানে টিনটিন বইতে ঠিক যেমন থাকে, তেমনি। মাটির তলার ওই স্টেশনটাই এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে টিনটিনের চরিত্র জাদুঘর।

হার্জে নিজেই এসব চরিত্রের ছবি আঁকা শুরু করেছিলেন সেই ১৯৮৩ সালে_মৃত্যুর কিছুদিন আগে। কিন্তু সব ছবি আঁকা শেষ করতে পারেননি। এরপর হার্জে স্টুডিও ও কার্টুন আঁকিয়ে বব ডি মুর মিলে ছবিগুলো আঁকা শেষ করেন। ১৯৮৮ সালের ৩১ আগস্ট উদ্বোধন করা হয় টিনটিনের মজার এই জাদুঘর।
টিনটিনের মুভি
টিনটিন নিয়ে বেশ কয়েকটি ফ্রেঞ্চ মুভি নির্মিত হয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য-
The Crab with the Golden Claws (1947) (টিনটিন নিয়ে প্রথম মুভি)
Tintin and the Golden Fleece (1961)
Tintin and the Blue Oranges (1964)
Tintin and the Temple of the Sun (1969)
Tintin and the Lake of Sharks (1972)
The Adventures of Tintin (2011)
দুরন্ত-দুর্বার কিশোর অভিযাত্রীকে নিয়ে ফাটাফাটি একটা থ্রিডি কার্টুন ছবি বানালেন স্টিভেন স্পিলবার্গ। ছবির নাম ‘দি অ্যাডভেঞ্চারস অব টিনটিন : দ্য সিক্রেট অব দ্য ইউনিকর্ন’।

ছবির মূল কাহিনী বলার আগে একটা গল্প না বললেই নয়। ১৯৮৩ সাল। লন্ডনে তখন তুমুল জনপ্রিয় ছবি ইন্ডিয়ানা জোনস সিরিজের দ্বিতীয় পর্বের শুটিং করছিলেন স্পিলবার্গ। এর কিছুদিন আগেও তিনি টিনটিনকে চিনতেন না, শুধু নামটাই শুনে আসছিলেন। তবে এটুকু জানতেন যে ওয়ান্ডারল্যান্ডের সেই অ্যালিসের মতো টিনটিনও একটা জনপ্রিয় চরিত্র। হার্জে নামের এক বুড়ো হচ্ছেন ওই কমিকের লেখক ও আঁকিয়ে। তো, সেই হার্জে মশাইয়ের সঙ্গে কী করে যেন দেখা হয়ে গেল স্পিলবার্গের। হার্জে চাইলেন তাঁর কমিক যেহেতু গোটা দুনিয়ায় জনপ্রিয়, তাই সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিচালকই তাঁর চরিত্র নিয়ে ছবি বানাক। তাঁর ইচ্ছার কথা জানতেই স্পিলবার্গ দিয়ে বসলেন কথা। যে করেই হোক টিনটিনকে নিয়ে তিনিই সবার আগে ছবি বানাবেন। সবাই আশায় আশায় দিন গুনতে শুরু করে দিল। একে একে কেটে গেল ২৮টি বছর! তখন যারা কিশোর ছিল, তারা হয়ে গেল প্রবীণ। যাদের জন্ম হয়েছিল, তারাও অপেক্ষা করতে করতে পেরিয়ে গেল কৈশোর। সেই হিসাবে ভেবে দেখো, আমরা কত ভাগ্যবান! নিজেদের প্রিয় হিরোর ছবিটা একেবারে থ্রিডি পর্দায় থ্রিডি অ্যানিমেশন আকারে পেয়ে গেলাম।
তিনটি কাহিনী মিলে তৈরি হয়েছে ‘দি অ্যাডভেঞ্চার অব টিনটিন’ সিনেমাটি। কাহিনী তিনটি হচ্ছে দ্য ক্র্যাব উইথ দ্য গোল্ডেন ক্লস, দ্য সেকরেট অব দ্য ইউনিকর্ন এবং রেড র‌্যাকহ্যামস ট্রেজার। তিনটি কাহিনী মিলিয়ে সিনেমার জন্য একটি কাহিনী তৈরি করেছেন স্টিভেন মফাট, এডগার রাইট ও জো করনিশ।
এ ছবির গল্পটা হলো গুপ্তধন খোঁজা নিয়ে। ইউনিকর্ন নামের একটা জাহাজ কেনে টিনটিন। ভেবেছিল শাখারাইন নামের এক লোক জাহাজটা কিনবে। কিন্তু টিনটিন আর তার বন্ধু হ্যাডককে আটকে রাখে দুষ্ট শাখারাইন। ইউনিকর্ন নিয়ে যায় মরক্কোর দিকে। সেখানে পেঁৗছতেই পালিয়ে যায় টিনটিন ও তার দল। মরক্কোর এক শেখের দরবারে যায় ওরা। কেননা ওই শেখের কাছেই রয়েছে ইউনিকর্নের আরেকটি মডেল। ইউনিকর্ন কেন এত গুরুত্ব পেল? জানা গেল একটু পরেই। ক্যাপ্টেন হ্যাডক জানাল, তিন শ বছর আগে তার এক পূর্বপুরুষ তাকে গুপ্তধনের কথা বলে গেছে, যে গুপ্তধনের সূত্র লুকানো আছে জাহাজটার নকশার ভেতরেই। গল্পের বাকিটা বলে দিলে তো মজাই নষ্ট হয়ে গেল। নিজেই দেখে নিন।
ডাউনলোড করুন
কিছু তথ্য
* দ্য ব্লু লোটাস বা নীলকমল কাহিনীতে যেসব রাস্তা, দেয়ালচিত্র ও চীনা চরিত্রের কথা বলা হয়েছে, সব সত্যি। বানানো কিছুই নেই। শুধু যে নীলকমলের কাহিনী, তা নয়; অনেক সময় শিল্পকর্মকে জীবন্ত করে তোলার জন্য বিভিন্ন জায়গা এবং বস্তুর প্রকৃত ছবি ব্যবহার করতেন হার্জে।
* টিনটিন সিরিজের দশম কাহিনী মানে ‘দ্য শ্যুটিং স্টার’ বা ‘আশ্চর্য উল্কা’ ছিল প্রথম রঙিন টিনটিন বই। আগের ৯টি বই ছিল সাদাকালো। যদিও পরে ওসব সাদাকালো বইও রঙিন করা হয়।
* হার্জের প্রথম বান্ধবীর নাম ছিল মিলু। টিনটিনের পোষা কুকুরটার নাম রাখা প্রথম বান্ধবী মিলুর নামে। ফরাসি ভাষায় পোষা কুকুরটাকে মিলু বলেই ডাকা হয়।
* টিনটিন কাহিনীর মধ্যে দুনিয়ার ৬০টি বন্দরের নাম আছে।
* টিনটিনই হচ্ছে একমাত্র কমিক চরিত্র, যাকে সম্মানিত করেছেন তিব্বতের ধর্মীয় গুরু ও শান্তিতে নোবেল পাওয়া দালাই লামা। ২০০৬ সালে টিনটিনকে ‘লাইট অব দ্য ট্রুথ অ্যাওয়ার্ড’ হিসেবে সম্মানিত করেন তিনি।
* টিনটিনের অনুবাদ হয়েছে ৭০টিরও বেশি ভাষায়।
* টিনটিনের ছবি ব্যবহার করে প্রায় আড়াই শ পণ্য তৈরি হয় বিভিন্ন দেশে। এসব পণ্যের মধ্যে ঘড়ি থেকে শুরু করে প্যান্টও আছে।

http://www.somewhereinblog.net/blog/hellboytonmoy7031/29486462

Nov 18, 2011

আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর

tasfi_1311526648_1-tasfi_1280033012_1-38651_2480816218871_1206514449_100721046_2920658_n.jpg
শুভ জন্মদিন "আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ " স্যার / আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ (২৫শে জুলাই, ১৯৩৯) বাংলাদেশের একজন বহুমুখী ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে শিক্ষক, লেখক,সম্পাদক, উপস্থাপক এবং সংগঠক হিসেবে সুপরিচিত। এ ছাড়াও তিনি একজন সুবক্তা হিসেবে খ্যাত। তাঁর তৈরি করা প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ত্রিশ বছর ধরে বাংলাদেশে আলোকিত মানুষ তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছেন / আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ১৯৩৯ সালে কলকাতার পার্ক সার্কাসে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক নিবাস বাগেরহাট জিলার কচুয়া থানার অন্তর্গত কামারগাতি গ্রামে। তাঁর পিতা আযীমউদ্দিন আহমদ ছিলেন একজন স্বনামধন্য শিক্ষক। পিতার শিক্ষক হিসেবে অসামান্য সাফল্য ও জনপ্রিয়তা শৈশবেই তাকে শিক্ষকতা পেশার প্রতি আকৃষ্ট করে।
* মাধ্যমিক – পাবনা জিলা স্কুল(১৯৫৫)
* উচ্চমাধ্যমিক – প্রফুল্লচন্দ্র কলেজ,বাগেরহাট(১৯৫৭)
* স্নাতক – সম্মান (বাংলা), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬০)
* স্নাতকোত্তর – এম.এ (বাংলা), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬১)।
শিক্ষক হিসেবে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ জনপ্রিয়তার সর্বোচ্চ শিখর স্পর্শ করেছেন। অধ্যাপক হিসেবে তাঁর খ্যাতি কিংবদন্তিতুল্য। তিনি শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন ১৯৬১ সালে, মুন্সীগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজে খন্ডকালীন প্রভাষক হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি কিছুকাল সিলেট মহিলা কলেজে শিক্ষকতা করেন। ১৯৬২ সালের পহেলা এপ্রিল তিনি রাজশাহী কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে সরকারি চাকুরিজীবন শুরু করেন। সেখানে পাঁচ মাস শিক্ষকতা করার পর তিনি ঢাকায় ইন্টারমিডিয়েট টেকনিক্যাল কলেজে যোগ দেন (বর্তমানে ঢাকা বিজ্ঞান কলেজ)। এই কলেজে তিনি দু’ বছর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র তেইশ। এরপর তিনি বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কলেজ ঢাকা কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ জালালউদ্দিন আহমেদের আমন্ত্রনে সেখানে যোগদান করেন। ঢাকা কলেজেই তিনি তাঁর শিক্ষকতা জীবনের স্বর্ণযুগ অতিবাহিত করেন। সে সময় ঢাকা কলেজ ছিল দেশসেরা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মিলনস্থল। অধ্যাপক আবু সায়ীদ যখন ঢাকা কলেজে যোগ দেন তখন কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান ছিলেন বাংলা সাহিত্যের শক্তিমান কথাসাহিত্যিক ও গদ্য লেখক শওকত ওসমান ৷ ঢাকা কলেজের শিক্ষকতা জীবন তিনি অত্যন্ত উপভোগ করতেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, "ছেলেবেলায়, স্কুল থেকে কলেজে উঠে, অর্থনীতির বইয়ে পড়েছিলাম কেন একজন শিল্পপতি, কন্ট্রাক্টর বা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীর চেয়ে একজন শিক্ষকের বেতন কম ৷ যুক্তি হিসেবে সেখানে বলা ছিল একজন শিক্ষকের জীবন কাটে মার্জিত, পরিশীলিত পরিবেশে, বৈদগ্ধময় ব্যক্তিদের সাহচর্যে, উচ্চতর জীবনচর্চার অবকাশময় আনন্দে ৷ জীবনের সেই মর্যাদা, তৃপ্তি বা শান্তি ঐ ব্যবসায়ী বা নির্বাহীর জীবনে নেই ৷ এই বাড়তি প্রাপ্তির মূল্য দিতে শিক্ষকের আয় তাদের তুলনায় হয় কম ৷ ঢাকা কলেজের শিক্ষকতায় ঐ তৃপ্তি আমার এত অপরিমেয় হয়েছিল যে কেবল বেতন কম হওয়া নয়, আমার জন্য হয়ত বেতন না-থাকাই উচিত হত ৷ এই পাওয়া যে কতটা তা বুঝেছিলাম কিছুদিনের জন্য অন্য কলেজে গিয়ে৷"
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করবার সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু ঢাকা কলেজে প্রাণবন্ত, সপ্রতিভ, উজ্জ্বল ছাত্রদের পড়ানোর তৃপ্তি, শিক্ষক-জীবনের অনির্বচনীয়তম আস্বাদ ছেড়ে তিনি যেতে চাননি ৷ তাঁর মতে, "বাংলা বিভাগে যোগদান করাটা আমার কাছে সবচেয়ে ভালো ছাত্রদের ছেড়ে সবচেয়ে খারাপ ছাত্রদের পড়াতে যাওয়ার মত মনে হয়েছে" ৷
অধ্যাপক আবু সায়ীদ কখনোই ক্লাসে রোলকল করতেন না। রোলকলকে তার কাছে মনে হতো সময়ের অপব্যয় ৷ তাই বছরের পয়লা ক্লসেই ঘোষণা করে দিতেন রোলকল না করার ৷ তিনি বলেন, "অনিচ্ছুক হৃদয়কে ক্লাশে জোর করে বসিয়ে রেখে কী করব? আমার চ্যালেঞ্জ ছিল এক ধাপ বেশি: কেবল শিক্ষক হওয়া নয়, সব ছাত্রের হৃদয়ের কাছে পৌঁছানো, সব ছাত্রের হৃদয়কে আপ্লুত করা ৷" ক্লাশের সেরা ছাত্রটাকে পড়ানোর চেষ্টা করার চেয়ে তিনি পড়াতে চেষ্টা করতেন ক্লাশের সবচেয়ে বোকা ছাত্রটাকে ৷ সারাক্ষণ তাকেই বোঝাবার চেষ্টা করতেন, কেননা তার বোঝা মানে ক্লাসের বাকি সবার বোঝা।
ষাটের দশকে বাংলাদেশে যে নতুন ধারার সাহিত্য আন্দোলন হয়, তিনি ছিলেন তার নেতৃত্বে। সাহিত্য পত্রিকা কণ্ঠস্বর সম্পাদনার মাধ্যমে সেকালের নবীন সাহিত্যযাত্রাকে তিনি নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা দিয়ে সংহত ও বেগবান করে রেখেছিলেন এক দশক ধরে।
বাংলাদেশে টেলিভিশনের সূচনালগ্ন থেকে মনস্বী, রুচিমান ও বিনোদন-সক্ষম ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভুত হন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। টেলিভিশনের বিনোদন ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় তিনি পথিকৃৎ ও অন্যতম সফল ব্যক্তিত্ব।
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের ব্যক্তিত্বের প্রায় সবগুলো দিক সমন্বিত হয়েছে তাঁর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সংগঠক সত্তায়। তিনি অনুভব করেছেন যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের প্রয়োজন অসংখ্য উচ্চায়ত মানুষ। আলোকিত মানুষ চাই- সারা দেশে এই আন্দোলনের অগ্রযাত্রী হিসেবে প্রায় তিন দশক ধরে তিনি রয়েছেন সংগ্রামশীল। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র গড়ে উঠেছে একটু একটু করে, অনেক দিনে। এই দীর্ঘ সময়ে বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের মুখে নানা উথথান পতনের মধ্য দিয়ে তাঁকে এগোতে হয়েছে।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র জন্ম ১৯৭৮ সালে। মূলতঃ দেশের আদর্শগত অবক্ষয় দেখে তা থেকে উত্তরণের জন্যে অধ্যাপক সায়ীদ এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এ প্রসঙ্গে সায়ীদ বলেন: "দেশের এই সার্বিক অবক্ষয় এবং সম্ভাবনাহীনতার ভেতর সীমিত সংখ্যায় হলেও যাতে শিক্ষিত ও উচ্চমূল্যবোধসম্পন্ন আত্মোৎসর্গিত এবং পরিপূর্ণ মানুষ বিকশিত হওয়ার পরিবেশ উপহার দেয়া যায়, সেই উদ্দেশ্য নিয়েই আমরা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র গড়ে তুলতে চেষ্টা করছি। একজন মানুষ যাতে জ্ঞানের বিভিন্ন শাখার অধ্যয়ন, মূল্যবোধের চর্চা এবং মানবসভ্যতার যা-কিছু শ্রেয় ও মহান তার ভেতর দিয়ে পরিপূর্ণ মনুষ্যত্বসম্পন্ন হয়ে বেড়ে উঠতে পারে- আমরা এখানে সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই। কাজেই আমাদের এই প্রতিষ্ঠানটি একটি প্রাণহীন, কৃত্রিম, গতানুগতিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি সর্বাঙ্গীণ জীবন-পরিবেশ।"
প্রথমদিকে তার তত্ত্বাবধানে মাত্র পঁচিশ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী বিশ্বের মহান সাহিত্যকর্ম গুলো পড়তে ও সেগুলোর উপর আলোচনা করা শুরু করে। ধীরে ধীরে এই পাঠচক্রে স্কুল-কলেজ ও সাধারণ মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই পাঠচক্রগুলোতে বাংলা ও বিশ্ব সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ বইগুলোর পঠন এবং সেগুলোর ওপর প্রানবন্ত আলোচনা করা হয়। বর্তমানে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ৫০০ টি শাখা দেশের মোট ৫৪ টি জেলায় তাদের কর্মকান্ড বিস্তৃত করেছে এবং এর সাথে যুক্ত আছেন বহু স্বেচ্ছাসেবী কর্মী।
বাংলাদেশে পাঠাগারের অপ্রতুলতা অনুধাবন করে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ১৯৯৮ সালে ভ্রাম্যমান লাইব্রেরি কার্যক্রম আরম্ভ করে। নরওয়েজিয় সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এই কার্যক্রমে বই-ভর্তি একটি বাস/গাড়ি পাঠকের দুয়ারে গিয়ে হাজির হয়। প্রথমদিকে ঢাকায় কার্যক্রমটি ঢাকায় আরম্ভ হলেও আজ তা বাংলাদেশের অধিকাংশ জেলায় বিস্তৃত হয়েছে।
তরুণ বয়সে তিনি কবিতা ও কল্পকাহিনী লিখতেন। ১৯৬০ সালের সাহিত্য আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেণ। অধ্যাপক সায়ীদ বহু প্রবন্ধ, উপন্যাস ও কবিতা লিখেছেন।
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ২০০৫ সালে একুশে পদক পান। ২০০৪ সালে তিনি র‍্যামন মাগাসেসে পুরস্কার অর্জন করেন।
http://www.somewhereinblog.net/blog/tasfi/29419321

আসুন জানি Autorun.inf (অটোরান) সম্পর্কে

Autorun.inf কি?
এটা সম্পর্কে নতুন করে কিছু  বলার নেই। যারা মোটামুটি পিসি ব্যাবহার করি সবাই Autorun.inf এই নামটা দেখেছি। এই Autorun.inf হল একটা ছোট্ট প্রোগ্রামের মত, যা অন্য কোন ফাইল/ডকুমেন্ট/প্রোগ্রাম/ফাইল ইত্যাদি ওপেন করে যখন কোন সিডি/পেনড্রাইভ প্রবেশ করে। সাধারনত কোন CD/Pen drive পিসিতে প্রবেশ করানো হয় তখন উইন্ডোজ এই Autorun.inf এই ফোল্ডারটি খোজ করে, তারপর ওই ফাইলটিতে যে প্রোগ্রাম/বর্ননা দেওয়া থাকে সেই অনুযায়ী পেন্ড্রাইভ/সিডি উইন্ডোজ পরিচালনা করে। :lol:
                                               

কিভাবে তৈরি করব Autorun.inf ?  

হ্যা, আপনিও পারবেন এই আটোরান ফাইলটি তৈরি করতে। অনেকে হয়ত না জেনেই এই ফাইলটি তৈরি করেছেন। আজ বিস্তারিত জানব এই আটোরান সম্পর্কে।
প্রথমে Notepad ওপেন করুন। [স্টার্ট মেনু>রান(Run)>notepad]
এখন নিচের কমান্ডটি লিখুনঃ
[Autorun]
এখন সেভ করুন autorun.inf  নামে। হয়ে গেল আপনার তৈরি আটোরান! এখন এই ফাইলটি সিডি/পেনড্রাইভে কপি করুন।

কিছু কমান্ড ও কাজঃ

ওপেনঃ

হ্যা, এই আটোরান দিয়ে আপনি যদি কোন ফাইল ওপেন করতে চান তাহলে নিচের কমান্ডটি লিখুনঃ
              open=virus.exe
এখানে virus.exe এর বদলে আপনার কোন ছবি/ডকুমেন্ট আপনার ইচ্ছামত দিতে পারনে। অবশ্যই ফাইলের এক্সটেনশন উল্লেখ করতে হবে। যেমনঃ .mp3 .jpg ইত্যাদি। আর যে ফাইলটি ওপেনটি হবে ওই ফাইলটি পেনড্রাইভে/সিডিতে থাকতে হবে। আর আপনি যদি পেনড্রাইভের ফাইল ওপেন না করে ওই পিসি এর ফাইল ওপেন করতে চান তাহলে কমান্ডটি হবেঃ
Open=C:\Windows\notepad.exe
আমার মতে C ড্রাইভের ফাইল ওপেন করা ই ভাল কারন এইটা কমন ড্রাইভ। সব পিসিতে এই ফাইল গুলা থাকে।

আটোপ্লেঃ

এই কমান্ডের মাধ্যমে কোন ফাইল আটোমেটিক প্লে করবে। যেমনঃ
        AutoPlay=movie.avi
এখানে movie.avi এর স্থলে আপনার ফাইলটি দিবেন।

আইকনঃ

হুম এইটার সাথে কেউ কেউ পরিচিত। আইকন চেঞ্জ হবে। ওই পেনড্রাইভের/সিডির আইকনটি পরিবর্তন হবে। তাহলে কমান্ডটি হবেঃ
           icon=YourIcon.ico   
আপনার এইখানে ico এর বদলে exe আইকনও দিতে পারেন যেমনঃ  icon= Photoshop.exe  তাহলে ফটোশপ এর আইকনটি আপনার পেনড্রাইভে/সিডিতে দেখাবে।

লেবেলঃ

Label এর মাধ্যমে কোন নিদৃস্ট কন লেখা দেখাবে। তবে মাঝে মাঝে লেবেল এর কারনে আইকন ঠিকমত দেখায় না। [XP এর বেলায় এটা হয়]
               Label=Bangladesh Cyber Army
   মাঝে মাঝে এ্যন্টিভাইরাস এই আটোরান ফাইল্টি ভাইরাস হিসেবে ধরে/ব্লক করে দেয়। কিন্ত এটি কোন ভাইরাস না। কিছু কিছু এ্যন্টিভাইরাসে দেওয়াই থাকে যে এই নামের কোন ফাইল থাকলে তা ডিলিট করবে। যেমনঃ USB Disc Security। এটি আটোরান আপনাকে আপনার ভাইরাসটি ওপেন করতে সাহায্য করে। এখন আপনি যদি কোন ভাইরাসই না দেন ওই পেনড্রাইভে তাহলে এটি কোন ভাইরাসই না।  ধরেন আপনার বন্ধুকে পেন্ড্রাইভ দিলেন কিছু গান/ছবির সাথে একটা Trojan ও দিয়ে দিলেন সে যদি ওপেন না করে তাহলে তো আর তার পিসি আপনার ট্রজানের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে না।  এখন যদি আটোরান করে দেন  তাহলে আপনার বন্ধুর আর ওপেন করা লাগবে না এমনি এমনিই ওপেন হয়ে যাবে! আসুন দেখে নেই একটা ছোট্ট আটোরানঃ
[Autorun]
Open=virus.exe
Icon=kaspersky.ico
Label=No Virus Detected!
নোটঃ [Autorun] এই লেখাটা কিন্তু প্রথমে থাকতেই হবে।

মূল লেখার লিংক
http://techtunes.com.bd/tips-and-tricks/tune-id/90700/?utm_source=feedburner&utm_medium=feed&utm_campaign=Feed%3A+techtunes+%28Techtunes%29

বাংলা সাহিত্যের রহস্যপুরুষের সাক্ষাৎকার

কাজী আনোয়ার হোসেনের এই এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারটি এবারের ইত্তেফাক ঈদুল আযহা সংখ্যা ২০১১ তে প্রকাশিত হয়েছে। আগ্রহী পাঠকদের জন্য এখানে তার পুরোটাই দিলাম।

প্রশ্ন : ৪০০-এর ঘর পেরিয়েছে আপনার মাসুদ রানা, তার স্রষ্টা আপনি কাজী আনোয়ার হোসেন এখন পা রেখেছেন ৭৬-এ। প্রশ্নটা এখানে না, আমরা জানি পুরোপুরি মৌলিক কাহিনি নিয়ে যাত্রারম্ভ করেছিল আপনার এ সিরিজটি। তখন পর্যন্ত আমাদের এখানে গোয়েন্দাকাহিনি বলে কিছু ছিল না, আর স্পাই থ্রিলার তো এখনো বাংলা ভাষাতেই রচিত হয়নি আর। আপনি নিজেও গতানুগতিক একটা কাহিনি ‘কুয়াশা’ দিয়ে লেখালেখি শুরু করেছিলেন। ‘কুয়াশা’ ছিল ট্রাডিশনাল একটা রচনা। আমরা জানতে চাই, ‘কুয়াশা’ থেকে ‘মাসুদ রানা’ রচনা করতে এসে দুটি সিরিজের মধ্যে এই মেরুদূরত্ব রচনা কিভাবে আপনি সম্ভব করেছিলেন?
উত্তর : শৈশবে শ্রী হেমেন্দ্র কুমার রায় (যকের ধন, আবার যখের ধন, ঘটোত্কচ, নৃমুণ্ডশিকারী ইত্যাদি); শ্রী নীহাররঞ্জন গুপ্ত (কালো ভ্রমর, ইস্কাবনের টেক্কা, কালো হাত ইত্যাদি); শ্রী শশধর দত্ত (দস্যু মোহন) এবং আরও অনেক নাম-ভুলে-যাওয়া সুলেখক তাঁদের লেখার জাদু দিয়ে আমাকে একেবারে পাগল করে দিয়েছিলেন। সেই আদলেই আঠারো বছর বয়সে লিখতে শুরু করেছিলাম কুয়াশা সিরিজ। আর সেগুলো ছাপতে শুরু করি পড়ালেখা শেষ করে প্রেস ব্যবসায় নেমেই—১৯৬৪ সালে।
কিছু কিছু প্রশংসাও পাচ্ছিলাম। প্রথম ৩টি বই ছাপার পর সদ্যপরিচিত এক শিকারি বন্ধু, করাচি-লাহোরে মানুষ, জার্মানিফেরত মাহবুব আমিনকে দিয়েছিলাম পড়তে। আমি লেখালেখি করি শুনে তিনিই চেয়ে নিয়েছিলেন। তিনি তখন লাহোরের আরজিএ ট্র্যানজিস্টার রেডিও কোম্পানির ঢাকা-ম্যানেজার। পরদিন ফোন পেয়ে তাঁর অফিসে গেলাম। মনে আশা, খুব প্রশংসা করবেন বুঝি।
কিন্তু চা খাওয়ার ফাঁকে তিনি যা বললেন তাতে একেবারে হকচকিয়ে গেলাম। বললেন—মন্দ না, ভালোই। তবে পড়ে বোঝা যায়, আধুনিক রহস্য-সাহিত্য সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণাই নেই। আপনি জানেন না আজ কোথায় পৌঁছে গেছে বিশ্ব রহস্য-সাহিত্য। গড় গড় করে কয়েকটা নাম বলে গেলেন—এদের লেখা পড়েছেন? মাথা নাড়লাম। পড়ব কী, নামই শুনিনি কখনো।
চেহারা দেখে তিনি বুঝলেন আমার মনের অবস্থা। বললেন, কিছু মনে করবেন না। কথাগুলো আপনাকে দুঃখ দেওয়ার জন্য বলিনি। নির্জলা সত্যি কথা বলেছি। না বললে নিজের কাছেই ধোঁকাবাজ, অসত্ লোক মনে হতো আমার নিজেকে। চা শেষ করে উঠছি, তিনিও উঠলেন—চলুন, আপনাকে একটা বই প্রেজেন্ট করব। ওটা পড়লেই আমার কথাগুলো পরিষ্কার হয়ে যাবে আরও।
ওঁর ছোট্ট ফিয়াট সিক্স হানড্রেড গাড়িতে করে আমাকে নিয়ে গেলেন স্টেডিয়ামের একটা বইয়ের দোকানে। আড়াই টাকা দিয়ে কিনে দিলেন তখনকার ক্রেজ ইয়ান ফ্লেমিঙের ডক্টর নো। বাসায় ফিরে খাওয়া-দাওয়ার পর বিছানায় নিয়ে গেলাম বইটা। একটানা পড়ে রাত দশটায় শেষ করলাম বই। লজ্জাই হলো। হাড়ে হাড়ে টের পেলাম মানের তারতম্য।
শুরু হলো অনুশীলন। তারই ফলাফল একে একে ধ্বংস-পাহাড়, ভারত নাট্যম, স্বর্ণমৃগ এবং পরবর্তী ৪১০টি মাসুদ রানা।
প্রশ্ন : কুয়াশা প্রকাশিত হয়েছিল সেগুনবাগান প্রকাশনী থেকে, যা পরে সেবা প্রকাশনীতে রূপান্তরিত হয়। আমরা জানি, বাবার কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে ১৯৬৩ সালে আপনি এই সেগুনবাগান প্রেস চালু করেছিলেন। তখন আপনি লিখতেন বিদ্যুত্ মিত্র নামে। সেগুনবাগান প্রেস ও প্রকাশনী প্রতিষ্ঠা, বিদ্যুত্ মিত্র থেকে কাজী আনোয়ার হোসেনে ফিরে আসার ওই ঘটনাগুলো যদি একটু বিস্তারিত বলতেন।
উত্তর : এমএ পাশ করার পর কিছুদিন গান-বাজনা নিয়ে সুখে কাটল, তারপর বড়রা ধরে বিয়ে দিয়ে দিলেন। পড়লাম বিপদে। অনেক আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, চাকরি করব না; রোজ রোজ নটা-পাঁচটা অফিস করা আমার ধাতে সইবে না। তা হলে কী করব? রোজগার তো করতে হবে। ভেবে-চিন্তে স্থির করলাম, প্রেস ও প্রকাশনী ব্যবসা করব, নিজের লেখা নিজে প্রকাশ করব নিজের প্রেস থেকে। শুরু করলাম সেগুনবাগান প্রেস, সেইসঙ্গে প্রকাশনী। কিন্তু নামটা জুতসই লাগছিল না। কিছুদিন পর সেগুনের ‘সে’ আর বাগানের ‘বা’ নিয়ে জন্ম হলো সেবা প্রকাশনীর। শুনতে ভালো, সবাই পছন্দ করল; তাই থাকল ওই নামই।
আর আমার নামের ব্যাপারটা… তখন রেডিও-টিভি-সিনেমায় গান গাইতাম কাজী আনোয়ার হোসেন নামে। চেয়েছিলাম পাঠক আমাকে অন্য নামে চিনুক, তাই ছদ্মনাম নিয়েছিলাম বিদ্যুত্ মিত্র। পরে যখন গান-বাজনা ছেড়ে নিয়মিত লেখালেখি শুরু করলাম, তখন আর ছদ্মনামের প্রয়োজন থাকল না।
প্রশ্ন : এবার একটু আপনার শৈশব-কৈশোরের কথা শুনি, একটা গল্প প্রচলিত আছে যে, আপনি তখন সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুলের ক্লাস ওয়ানের ছাত্র। বাংলার স্যার ‘নির্বোধ’ দিয়ে বাক্য রচনা করতে বললে আপনি লিখেছিলেন, ‘আমার বাবা একটি নির্বোধ’। আমাদের কি বলবেন ওই গল্পটা বড় মানুষকে নিয়ে বানানো গল্পগুলোর একটা, না সত্যি আপনি ওই বাক্যটা লিখেছিলেন?
উত্তর : আমিই লিখেছিলাম। ঘটনা সত্য। টিচার আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, নির্বোধ শব্দটির মানে জানো? আমি বলেছিলাম, জানি, স্যার। বোকা।
আসলে আমিই ছিলাম নির্বোধ। জানতাম না আমার আপনভোলা, সহজ-সরল পিতাকে আমার মা বোকা বলতে পারেন; আমি পারি না।
প্রশ্ন : বাবা ড. কাজী মোতাহার হোসেন আপনার এবং আপনার ভাইবোনদের মেধা, মনন ও মানসিকতার উত্কর্ষ সাধনে কী ভূমিকা রেখেছিলেন?
উত্তর : হ্যাঁ। প্রচুর। আমাদের সবার চাহিদার প্রতি নজর ছিল তাঁর।
প্রশ্ন : আপনার মায়ের কথা কিছু বলুন, ওনার নাম তো সাজেদা খাতুন?
উত্তর : হ্যাঁ। তিনি ছিলেন পশ্চিম বাংলার মানুষ। হুগলির শামসুল ওলামা মৌলানা ফজলুর রহমানের নাতনী। পিতা ফায়েজুর রহমান কলকাতা শহরেই সেট্ল্ করেছিলেন। সে-সময়ে ওখানকার অনেক মুসলিম পরিবারে বাংলার চেয়ে উর্দুর চল ছিল বেশি। মার লেখাপড়া বেশিদূর এগোয়নি, বাড়িতেই যেটুকু যা। সেটা যে খুব কম ছিল তাও বলা যায় না, কারণ বিয়ের আগেই তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারানী’ ও ‘যুগলাঙ্গুরীয়’ উপন্যাস দুটি উর্দুতে অনুবাদ করেছিলেন।
অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু তখন থেকেই তিনি স্বামীর সংসারের সমস্ত বোঝা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। যার ফলে আব্বা নিশ্চিন্ত মনে তাঁর লেখাপড়া ও গবেষণার কাজে পরিপূর্ণভাবে মনোনিবেশ করতে পেরেছিলেন।
প্রশ্ন : বাবা বা মায়ের কোনো বিশেষ গুণ কি আপনাকে আকৃষ্ট করত?
উত্তর : হ্যাঁ। বাবার বিচক্ষণতা, ধৈর্য, ন্যায়নিষ্ঠা ও অধ্যবসায় দেখে অনেক কিছু শিখেছি। আর মা ছিলেন খুব বড় মনের মানুষ। অকুণ্ঠ স্নেহ ও নিরাপত্তা বলয় দিয়ে ঘিরে রাখতেন কাছের সবাইকে।
প্রশ্ন : সাত বোন ও চার ভাইয়ের এক বিশাল পরিবার ছিল আপনাদের, ভাইবোনদের মধ্য থেকে কারও কথা কি বলবেন, যিনি আপনাকে বিশেষভাবে প্রভাবিত বা পরিচালিত করেছেন?
উত্তর : বাবা ছিলেন ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, মুক্তবুদ্ধির মানুষ। তিনি আমাদের সবাইকে নিজের মতো করে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিয়েছিলেন, সাহায্য চাইলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু প্রভাবিত বা পরিচালনার চেষ্টা করেননি। আমরা ভাই-বোনেরাও চাপমুক্ত পরিবেশে যে-যার মতো করে বিকশিত হয়েছি। সেজন্য সবাইকে মেলা পরিশ্রম করতে হয়েছে, কষ্ট করে গড়তে হয়েছে নিজেদের—কেউ কারও ওপর প্রভাব বিস্তারের সময় বা সুযোগ পাইনি।
তবে এখানে আমার সেজো বোন খুরশিদা খাতুনের কথা উল্লেখ না করলেই নয়। তিনিই প্রথম আমাকে লেখালেখিতে উত্সাহ দিয়েছিলেন। তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি। তাঁরই উত্সাহে নিয়মিত ডায়েরি লিখেছি বহুদিন। তিনিই সেই ডায়েরিটা লাল-নীল সুতো দিয়ে নিজ হাতে সুন্দর করে বানিয়ে দিয়েছিলেন। নিয়মিত লিখতে লিখতেই লেখার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করা আমার জন্য অনেকটা সহজ হয়ে এসেছিল।
প্রশ্ন : সেইন্ট গ্রেগরিজ থেকে জগন্নাথ কলেজ, তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় পড়াশোনা শেষ করে গান গাওয়াকেই পেশা হিসেবে নিয়েছিলেন। পরিবারে সংগীত চর্চা ছিল আপনাদের, আপনার বোন সন্জীদা খাতুন ও ফাহমিদা খাতুন এখনো রবীন্দ্রসংগীতে অনন্য জায়গা দখল করে আছেন। আপনার স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিনও একজন বিখ্যাত শিল্পী, আপনাদের বিয়ে হলো ১৯৬২ সালে, ১৯৬৩ সালে আপনার প্রেস ও প্রকাশনীর যাত্রারম্ভ হলো এবং তার কয়েক বছরের মধ্যে আপনারা দু জনই গানটা পুরোপুরি ছেড়ে দিলেন। কেন ছাড়লেন—এটা অনেকেরই জানার আগ্রহ রয়েছে।
উত্তর : ফরিদা ইয়াসমিন কিন্তু ঠিক ছাড়েননি, এখনো এক-আধটা গান করেন। তবে কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন ছেলে-মেয়ে-সংসারের চাপে। আমি সত্যিই ছেড়েছি। নতুন একটা পেশা ও সেইসঙ্গে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাতে গিয়ে বুঝেছি, আমার মতো সাধারণ একজন মানুষের জন্য একসঙ্গে অনেক কাজ করতে যাওয়া উচিত নয়। লেখালেখি, গান, ব্যবসা—তিনটেই তো আসলে হোলটাইম জব, তাই একটাকে বিসর্জন দিতেই হলো।
প্রশ্ন : ফরিদা ইয়াসমিনের সঙ্গে পরিচয় হলো কিভাবে? আসলে আমরা আপনাদের দু জনের সম্পর্ক গড়ে ওঠার গল্পটা জানতে চাইছি।
উত্তর : গল্প ছোটই। পরিচয় গান গাইতে গিয়ে রেডিও স্টেশনে। আমি তাঁর প্রতি আকর্ষণ বোধ করতাম মিষ্টি গলা ও সুন্দর চোখের কারণে। তিনি কেন… কে জানে! কী করে যেন একদিন মন দেয়া-নেয়া হয়ে গেল। তারপর দু জনেই অপ্রস্তুত অবস্থায় ঝাঁপ দিলাম সংসার সমুদ্রে।
প্রশ্ন : আপনার লেখালেখির কথাতেই ফিরি। যখন রহস্য-সাহিত্য নিয়ে এ অঞ্চলে অর্থাত্ পূর্ববঙ্গে সিরিয়াস ধারার সাহিত্য সমালোচকদের নাক সিঁটকানো ভাব ছিল, তখন কাজী আনোয়ার হোসেন কোন ভিতের ওপর নির্ভর করে মাসুদ রানার মতো এক রহস্যময় চরিত্র নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখলেন? বর্তমানে আপনি নিজের সৃষ্ট চরিত্রের সাফল্য দেখে কেমন বোধ করেন?
উত্তর : বিরাট কোনো সাফল্য অর্জন আসলে করিনি। যা-ই হোক, ভিত আর কিছুই নয়—আমার আত্মবিশ্বাস। আমি লেখালেখির ব্যাপারে কখনো কারও সমর্থন বা আনুকূল্য চাইতে যাইনি। জানতাম, রথী-মহারথীদের কাছে গেলেই তাঁদের দ্বারা প্রভাবিত হতে হবে—আমি আর নিজের মতো লিখতে পারব না। আমার যা ভালো লেগেছে আমি আসলে সেই কাজটাই করেছি, কারও মুখাপেক্ষী হইনি। কারও প্রশংসার জন্য যদি কাজ করতাম, তা হলে তাঁদের বাঁধাধরা পছন্দের পথে চলতে হতো—তাতে আমার সন্তুষ্টি হতো না।
আর নাক সিঁটকানোর ব্যাপারে আর কী বলব, এটা তো জানা কথাই, কোনোদিন সব মানুষের প্রিয় হওয়া যায় না। সবকিছু সবার ভালো লাগতে পারে না। মানুষে মানুষে রুচির ভিন্নতা আছে বলেই না তৈরি হয়েছে এত মত, এত পথ। আসল কথা, আমি দেখব, যা করছি সেটা অন্যায় কিছু কি না, এবং করতে আমার ভালো লাগছে কি না। আমার ভালো লাগে তাই রহস্যোপন্যাস, রহস্যগল্প লিখেছি; এক শ্রেণীর পাঠকের কাছে সেটা ভালো লেগেছে বলে তারা পড়েছে; আরেক শ্রেণী পছন্দ করেনি বলে পড়েনি। ব্যস, মামলা শেষ। কারও কাছেই যদি ভালো না লাগত, কেউ যদি না পড়ত, তবে কবে ছাঁটাই হয়ে যেতাম! আমি খুশি যে কারও তোয়াক্কা না করে নিজের কাজ করে গেছি। যদি সমালোচনার ভয়ে পিছিয়ে যেতাম, তা হলে অনেক মানুষ অনেক আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতো। আমি নিজেও অপরিপূর্ণ থেকে যেতাম।
প্রশ্ন : মাসুদ রানা সিরিজের তৃতীয় বই ‘স্বর্ণমৃগ’। ওই বইটি প্রকাশের পর সেই সময়কার বিখ্যাত সাময়িকী ‘সচিত্র সন্ধানী’ আপনার কলম কেড়ে নিয়ে হাতে আগুনের ছ্যাঁকা দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছিল। তাঁদের আপত্তির মূল বিষয় ছিল, আপনি মাসুদ রানার মাধ্যমে খোলামেলা যৌনতা নিয়ে এসেছিলেন। যতদূর জানি আপনি তখন সন্ধানীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করে হেরে গিয়েছিলেন এবং উল্টো সরকারিভাবে ‘স্বর্ণমৃগ’ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ওই ঘটনাটা সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?
উত্তর : হ্যাঁ, খুব খেপে যাওয়ার ভান করেছিল সচিত্র সন্ধানী। কিন্তু আমি তাঁদের ভিতরটা ঠিকই দেখতে পেয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, তাঁদের প্রকাশিত যৌনতা-নির্ভর উপন্যাস ‘খেলারাম খেলে যা’র দিক থেকে মানুষের নজর অন্যদিকে ফিরাবার জন্য তাঁরা আমাকে টার্গেট করেছিলেন; শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির ধারক-বাহক-রক্ষকের ভঙ্গি নিয়ে কাউকে আক্রমণ করার খুব প্রয়োজন ছিল তাঁদের।
শুধু আগুনের ছ্যাঁকা নয়, পল্টন ময়দানে আমাকে উলঙ্গ করে বেঁধে বেত মারার প্রস্তাবও ছিল তাঁদের। সেজন্য আমি মানহানির মামলা করতে বাধ্য হয়েছিলাম। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তাঁরা প্রভাব খাটিয়ে আমার বইটি নিষিদ্ধ করিয়ে দিলেন। আমি সেই সরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে আইনি নোটিস পাঠালাম, যার ফলে বইটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলো। কিন্তু সেটা হাতে পাওয়ার আগেই কোর্টের রায় আমার বিরুদ্ধে চলে গেল। সন্ধানীর পক্ষে প্রায় পনেরো-বিশজন বাঘা বাঘা উকিল হাজির হয়ে জজ সাহেবকে বোঝালেন, যেহেতু সরকার আমার বইটিকে নিষিদ্ধ করেছে, সেহেতু ওটি খারাপ, এবং সে- সম্পর্কে সচিত্র সন্ধানী যা বলেছে সেটা ঠিকই আছে, মানহানিকর কিছুই হয়নি। আমার উকিল মিন মিন করে দুর্বল কণ্ঠে বললেন—সরকার ওই আদেশ তুলে নিয়েছেন, আগামী কালই আমরা সরকারি চিঠি দেখাতে পারব। জজ সাহেব শুনে বললেন—বেশ তো, আগামীকাল আবার কেস করবেন।
আমার আর অত ঝামেলা করার প্রবৃত্তি হয়নি। তবে স্বর্ণমৃগ এখনো নির্বিঘ্নে চলছে বাজারে।
এই প্রসঙ্গে একটা কথা মনে পড়ছে। সেইসব বড় বড় উকিলের মধ্যে আমাদের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানও ছিলেন। তিনি আমাকে বারান্দার একপাশে ডেকে নিয়ে বলেছিলেন, ‘নবাব (আমার ডাক নাম), আমি বলি কী, কেসটা উঠিয়ে নাও… পারবে না। বলো তো কমেপ্রামাইজ করিয়ে দিই।’ আমার তখন মহা রাগ, অপমানে গা জ্বলছে। বললাম, ‘জিল্লুর ভাই, ও আমাকে ইত্যাদি ইত্যাদি…’ তিনি হেসে বললেন, ‘আমি সবই জানি।’ কিছুতেই রাজি হচ্ছি না দেখে শেষে বললেন, ‘হেরে যাবে। যা-ই হোক, বইটা লিখেছ কিন্তু দারুণ!’ এই একটি কথায় তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা বোধ করেছিলাম সেদিন।
প্রশ্ন : প্রথম দু-তিনটা বইয়ের পরই শুরু হলো ভাবানুবাদ বা অ্যাডাপটেশন। রানার কাহিনি সংগ্রহ করা হয়েছে অ্যালিস্টেয়ার ম্যাকলিন, জেমস হেডলি চেজ, রবার্ট লুডলাম, উইলবার স্মিথ, ক্লাইভ কাসলার, হ্যামন্ড ইনস, ডেসমন্ড ব্যাগলি, ইয়ান ফ্লেমিংসহ অসংখ্য লেখকের বই থেকে। মৌলিক রচনা দিয়ে শুরু করে চলে এলেন অ্যাডাপটেশনে। আপনার কি মনে হয়, মাসুদ রানা দিয়ে যে ধারার সূত্রপাত করেছেন, তা আমাদের রহস্যসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে পেরেছে?
উত্তর : আমার মনে হওয়ার কোনো গুরুত্ব বা মূল্য আছে বলে মনে করি না। আমি তো সমালোচক, বিচারক বা পাঠক নই। লেখক মাত্র।
আসল কথাটা বলি, আমি সাধারণ মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারের সন্তান, লেখালেখিতে কিছুটা হাত ছিল। আমার পক্ষে দু-চারটে স্পাই থ্রিলার লিখে ফেলা কঠিন কিছু ছিল না, কিন্তু বিদেশি কাহিনির সাহায্য ছাড়া ৪১৩টা মাসুদ রানা লিখে নামাতে হলে আমার সময় লাগত কমপক্ষে ৪০০ বছর। সেই কারণেই আমার অ্যাডাপটেশন, বিদেশি কাহিনির অবলম্বন। এসব কাহিনি লিখতে হলে বিশাল ও বিচিত্র অভিজ্ঞতার ঝুলি থাকতে হয়, আমার পক্ষে সে অভিজ্ঞতা অর্জন করা কোনোক্রমেই সম্ভব ছিল না—সত্যি বলতে কী, কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। ইংরেজি সাহিত্যেও বড় বড় থ্রিলার রাইটারের মৌলিক লেখার সংখ্যা ১২-১৪টির বেশি নয়।
আমার অ্যাডাপটেশন যে ধারার সূত্রপাত করল সেটা ভালো কি মন্দ, পড়ে ভালো লাগে কি লাগে না, বা এর ফলে আমাদের বাংলা রহস্য-সাহিত্য সমৃদ্ধ হলো কি হলো না—এসবের বিচার করবে, রায় দেবে পাঠক ও উপযুক্ত সমালোচক—এ বিষয়ে আমার কিছুই বলার নেই।
প্রশ্ন : তারপরেও কথা রয়ে যায়, কাজী আনোয়ার হোসেন মূল কাহিনি অনুসরণের পাশাপাশি গিলটি মিয়ার মতো চরিত্র সৃষ্টি করেছেন। গিলটি মিয়া তো একাই ১০০। আছে রানার আদি-অকৃত্রিম ভালোবাসার মানুষ সোহানা, প্রাণের চেয়ে প্রিয় বন্ধু সোহেল, রাঙার মা, ইদু মিয়ারাও। আচ্ছা, আজকাল কি এই চরিত্রগুলোকে পাওয়া যায় না, নাকি খুব একটা মাসুদ রানা পড়ছি না এখন।
উত্তর : ওসব চরিত্র আপনার ভালো লেগেছিল জেনে ভালো লাগছে। ওইটুকুই আমার সার্থকতা। কেন, ওদের কেউ না কেউ তো প্রায় বইয়েই থাকছে। তা হলে কি আপনি…
প্রশ্ন : আমরা জানি, অনেক গোস্ট লেখক মাসুদ রানা লিখেন, শুরুর দিকে বোধ হয় প্রিন্টার্স লাইনে এঁদের কারও কারও নামও যেত, আপনি কি তাঁদের সবার নাম জানাবেন? নিদেনপক্ষে মাসুদ রানা নির্বাচন থেকে বই প্রকাশ সম্পর্কিত প্রক্রিয়াটি একটু বলুন।
উত্তর : প্রক্রিয়াটি এই রকম : কাহিনি বাছাই করি আমি, নিজেই বিস্তারিত একটা খসড়া তৈরি করি অথবা এককালীন বা মেয়াদি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে উপযুক্ত কাউকে সে কাজের ভার দিই। তারপর সেই খসড়াটি নিজ হাতে কাটাকুটির মাধ্যমে অনেক যোগ-বিয়োগ ও পরিবর্তনের পর একটি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাসে পরিণত করে ছাপতে দিই প্রেসে। কারও খসড়ায় সংশোধনের প্রয়োজন কম হয়, কারোটায় আবার গোটা কাহিনিই আমাকে রি-রাইট করতে হয়।
এই হচ্ছে মাসুদ রানার জন্ম বৃত্তান্ত।
সৌজন্যবশত কোনো কোনো ‘ভূত লেখক’ (গোস্ট রাইটার)-এর নাম একসময়ে মাসুদ রানার ভেতরের পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছিল বটে, কিন্তু এখন আর হয় না। কারণ, কেউ কেউ অর্থের বিনিময়ে রানার খসড়া রচনায় আমাকে সাহায্য করে উপযুক্ত পারিশ্রমিক পাওয়ার পরেও পরবর্তী সময়ে নিজেই রানার স্রষ্টা হয়ে বসবার চেষ্টা করেছিলেন; আরও টাকার দাবি তুলে কোর্ট-কাচারির হুমকি দিয়ে উকিল নোটিস পাঠিয়েছিলেন। ইদানিং শুনছি কপিরাইট অফিসে দেন-দরবার করে আমার কোনো কোনো বইয়ের স্বত্ব নাকি তাঁরা পেয়েও গেছেন। এবার আমার আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পালা।
কেন কারও নাম বলা সম্ভব হচ্ছে না, বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয়ই?
প্রশ্ন : আগেকার মাসুদ রানাতে বেশ একটা বুদ্ধি ও রোমাঞ্চের মারপ্যাঁচ পেতাম, সঙ্গে কাজী আনোয়ার হোসেনের স্বভাবসুলভ লেখনীর ধার তো থাকতোই, কিন্তু ইদানিংকার কিছু রানা সিরিজের বই পড়তে গিয়ে দেখলাম, সেই ঝাঁ-চকচকে চরিত্ররূপায়ণ ও লাস্যময়ী নায়িকাদের ভিড় ঠিকই আছে, অথচ নেই সেই বুদ্ধির খেলা, রহস্যের অদ্বিতীয় বুনোট। এরকমটা কেন?
উত্তর : কারণটা সম্ভবত, ভালো কাহিনির অভাব। অথবা আমার অক্ষমতা।
প্রশ্ন : সেবার একটা নিজস্ব ভাষা আছে, থ্রিলার লিখতে গিয়ে যে ভাষাটা আপনাকে তৈরি করতে হয়েছে। ভাষা তৈরির নেপথ্যের গল্পটা কি আমাদের বলবেন?
উত্তর : প্রথম যখন লিখতে বসলাম, টের পেলাম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ক্লাসে দুটো বছর যা শিখেছি সেই ভাষায় কাজ হচ্ছে না। ওই শ্লথ ভঙ্গির ঢিলেঢালা বাংলা অন্য ধরনের রচনার জন্য উপযোগী হলেও আমার বিষয়বস্তু কিছুতেই ফুটিয়ে তুলতে পারছি না। থ্রিলার লিখতে দরকার এমন একটি টান টান ভাষা, যা দ্রুত ঘটে যাওয়া উত্তেজনাপূর্ণ বিপজ্জনক ঘটনাগুলোকে ঠিকমতো ধারণ করতে পারে। লিখি, কাটি আর ছিঁড়ে ফেলি… এভাবে বেশ কিছুদিন প্রচুর পরিশ্রমের পর একটু একটু করে আয়ত্তে আসতে শুরু করল আমার পছন্দসই ভাষাটা। এখনো শিখছি।
প্রশ্ন : কাজী আনোয়ার হোসেন ভাষা তৈরির পাশাপাশি একটা লেখক গোষ্ঠী তৈরি করলেন, তাঁরা হলেন শেখ আবদুল হাকিম, রকিব হাসান, রওশন জামিল, শওকত হোসেন, ইফতেখার আমিন, টিপু কিবরিয়া, নিয়াজ মোর্শেদ প্রমুখ। এই লেখকদের কেউই এখন আর সেবার সঙ্গে নেই। কেন এমনটা হলো?
উত্তর : সেবার বয়স কত হলো তা জানেন তো? সাতচল্লিশ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে অনেকেই এসেছেন সেবার সংস্পর্শে, আবার নানান কারণে ছিটকে চলেও গেছেন একেকজন একেক দিকে। কেউ বিদেশে চলে গেছেন, কেউ সরে গেছেন ভিন্ন পেশায়, কারও চাকরিতে এতই পদোন্নতি হয়েছে যে, অতিব্যস্ততার কারণে লেখা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, কেউ লিখছেন ভিন্ন প্রকাশনীতে, মারাও গেছেন কেউ কেউ, আবার কেউ কেউ এখনো রয়ে গেছেন সেবার সঙ্গেই।
আপনার উল্লিখিত ওই ক’জনই শুধু নন, সেবা পরিবারের আকার আরও অনেক বড়। ওঁরা ছাড়াও সেবা প্রকাশনী আরও এক শ’র বেশি লেখক তৈরি করেছে, যাঁদের প্রথম বই প্রকাশিত হয়েছে এখান থেকেই। কয়েকটি নাম উল্লেখ করছি—আসাদুজ্জামান, খসরু চৌধুরী, জাহিদ হাসান, রোকসানা নাজনীন, মাসুদ মাহমুদ, ইসমাইল আরমান, শামীম হোসেন, অনীশ দাস অপু, শরীফুল ইসলাম ভূঁইয়া, রাহাত খান, সাগর চৌধুরী, শামসুদ্দীন নওয়াব, সুধাময় কর, কাজি মাহবুব হোসেন, মো. মুমিনুর রহমান, বিশু চৌধুরী, কাজী শাহনূর হোসেন, হাসান উত্পল, হিফজুর রহমান, কাজী মায়মুর হোসেন, সেলিম হোসেন টিপু, মামনুন শফিক, মেজর আনোয়ার হোসেন ও এ. এইচ. রনজু, ডা. আলীমুজ্জামান, খন্দকার মজহারুল করিম, আলীম আজিজ, আনোয়ার জাহিদ বাদল, কাজী রওনক হোসেন, বাবুল আলম, বজলুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, সাদেকুল আজিজ, মোনা চৌধুরী, জি. এইচ. হাবীব, শাহরিয়ার শামস, হাসি সিদ্দিকী, আসজাদুল কিবরিয়া, মিলা মাহফুজা, সরওয়ার পাঠান, হেলেন নওশীন, শায়লা মমতাজ, আ. ন. ম. হানিফ, সায়েম সোলায়মান, মাসুদ আনোয়ার, ইশতিয়াক হাসান ফারুক, মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, আবু মাহদী, সেলিনা সুলতানা, সালেহ মো. তানভীর, সুস্ময় আচার্য, ডা. রেজা আহমদ, কাজী সারওয়ার হোসেন, মুশফিকুল আলম, পার্থ তানভীর নভেদ্। আরও অনেকে ছিলেন, এই মুহূর্তে সবার নাম মনে পড়ছে না। কেউ আছেন, কেউ নেই—এটাই বোধহয় জগতের নিয়ম। আমরা সবাই সবার কাছ থেকে সরে যাচ্ছি দূর থেকে দূরে। তারপর একসময় মিলিয়ে যাব, থাকব না আর কেউ।
প্রশ্ন : সেবা প্রকাশনী থেকে এককালে খুবই অসামান্য কিছু ক্লাসিক সাহিত্যের সংক্ষিপ্ত অথচ মূলের একদম খাঁটি নির্যাসটুকু রয়েছে এমন অনুবাদ-বই বের হয়েছিল, এখন আর সেই সিরিজটি সেভাবে চলমান নেই। সেবার আরও কিছু সিরিজ ছিল বলে মনে পড়ছে—কৌতুক সিরিজ, ক্রীড়া সিরিজ, আজব সিরিজ, সেসব সিরিজ এখন এক্কেবারেই দেখা যায় না। সেবা থেকে এককালে বড়দের রহস্য পত্রিকার পাশাপাশি ছোটোদের জন্য কিশোরপত্রিকা নামে একটা ম্যাগাজিনও বের হতো, সেটাও পরে বন্ধ হয়ে যায়। এগুলো প্রকাশনা সংস্থা হিসেবে সেবার পিছিয়ে পড়ার দৃষ্টান্ত বলে মনে করতে পারি আমরা?
উত্তর : পারেন। মনে করায় কোনো দোষ নেই। তবে এ-ও স্মরণ রাখতে হবে, সেবা প্রকাশনী কোনো অ্যাকাডেমি নয়, একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে আজ পর্যন্ত দু হাজারেরও বেশি বিভিন্ন ধরনের বই প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু কালের আবর্তে টিকে রয়েছে কেবল কতিপয় ব্যবসাসফল বই ও সিরিজ। অর্থাত্ পাঠক যেগুলো পছন্দ করেননি সেগুলো ঝরে গেছে, রয়েছে কেবল তাঁদের পছন্দের বইগুলো। আমরা ছড়া-কবিতা ছেপেছি, নাটক ছেপেছি, কিশোরপত্রিকা ছেপেছি, ছেপেছি সায়েন্স ফিকশন, শিকার কাহিনি, রহস্য-রোমান্টিক উপন্যাস, কিশোর রোমাঞ্চ, প্রবন্ধ, ছোট গল্প ছেপেছি; এমনকি আমি নিজেও অনেক খেটে-পিটে কিশোর উপন্যাস লিখেছিলাম বেশ কয়েকটি—কিন্তু চলেনি। কাজেই ওসব বাদ পড়েছে। হা-হুতাশ করিনি—পাঠকের ভালো লাগবে বলেই তো প্রকাশনা, না কিনলে সেটা ছাপব কেন?

একজন মানুষ যিনি প্রায় ২ মিলিয়ন বাচ্চার জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছিলেন


জেমস হ্যারিসন, একজন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক যার রক্তে এমন একটি অ্যান্টিবডি ছিলো যা অ্যানিমিয়া(যেই রোগে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণ লোহিত রক্ত কনিকা তৈরি করতে পারে না) নামক রোগ থেকে মানুষকে বাঁচাতে পারতো।। এই অ্যান্টিবডি ছোট বাচ্চাদের রেসাস ডিজিজ(এই রোগে বাচ্চার রক্ত মায়ের রক্ত থেকে ভিন্ন হয়।। যেমন, মা যদি রেসাস নেগেটিভ গ্রুপের রক্তের অধিকারী হয়, তবে বাচ্চার রক্তের গ্রুপ হয় রেসাস পসিটিভ।। ফলশ্রুতিতে, মা গর্ভবতী থাকা অবস্থায় মায়ের শরীরের অ্যান্টিবডি বাচ্চার রক্তে হামলা চালায়।।) এই রকম বাচ্চারা সাধারণত মারা যায়।। মারা যাওয়ার অন্যতম প্রধান একটি কারন হলো, ব্রেইন ড্যামেজ।।
হ্যারিসনের প্রায় ৫৬ বছর যাবত রক্ত দিয়ে যাচ্ছিলেন।। যখন তার বয়স ৭৪ বছর হয়, ততদিনে তিনি সর্বমোট ৯৮৪ বার রক্ত দিয়ে দিয়েছেন এমনকি তখনো দিচ্ছেন!! এই সময়ের মধ্যে উনার এই মহৎ উদ্যোগ প্রায় ২ মিলিয়ন বাচ্চার জীবন বাঁচিয়েছে।। যখন হ্যারিসন প্রথম রক্ত দেয়া শুরু করেন, তখন তার রক্ত এতো বেশি মূল্যবান হিসেবে বিবেচনা করা হয় যে, তার নামে ১ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের জীবন বিমা করা হয়।। তার রক্ত পরবর্তীতে অ্যান্টি-ডি নামক একটি ভ্যাকসিন তৈরিতে ব্যাবহার করা হয়।।
জেনে খুশি হবেন, এই অ্যান্টি-ডি ভ্যাকসিন ব্যাবহারের কারনে ১৯৭৭ সাল থেকে রেসাস ডিজিজে বাচ্চাদের মৃত্যুহার প্রায় ৯০% কমে গেছে।।

সুত্রঃhttp://www.somewhereinblog.net/blog/JONOTA_123007/29483943

চীনের মরুভূমিতে অদ্ভুত স্ট্রিপ

চীনের মরুভূমির মাঝখানে অজ্ঞাত বিশালাকার কিছু কাঠামো ফুটে উঠেছে গুগল মানচিত্রে। প্রথম ছবিটাতে দেখা যাচ্ছে জটিল এক ধাতব নেটওয়ার্ক। নকশাটি দেখে মনে হচ্ছে ভূমির উপরিভাগে আড়াআড়িভাবে দাগ কেটে অথবা খুড়ে স্ট্রিপ বানানো হয়েছে। কি হচ্ছে এখানে কোন সামরিক গবেষণা?

কিছু কিছু দাগ দেখে মনে হচ্ছে এগুলো তৈরি করা হয়েছে রূপালি অথবা সাদা পদার্থ দিয়ে, অথবা কোন যন্ত্রের মাধ্যমে খুঁড়াখুঁড়ি কারণে ধূলার দাগও হতে পারে।
জায়গাটি ডানহুয়াং, জিউকুয়ান, গানসু, শুলে নদীর উত্তরে, যা তিব্বত মালভূমি পার হয়ে পশ্চিমে কুমটাগ মরুভূমিতে পরেছে। এর বিস্তৃতি লম্বায় প্রায় এক মাইল এবং ৩০০০ ফুট চওড়া।
ট্র্যাকগুলো সুন্দরভাবে তৈরি করা এবং দেখে মনে হয় নকশাটা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন তা আকাশ থেকে দেখা যায়। এমনও হতে পারে এটি চায়নার কোন গুপ্তচর উপগ্রহের জন্য ক্যালিব্রেটিং গ্রিড। অথবা হতে পারে এলিয়েনদের জন্য কোন QR কোড। এ সম্পর্কে কারো কোন ধারনা নেই।
ব্যাপারটা আপনি নিজেও পরীক্ষা করে দেখতে পারেন এখান থেকে।
দ্বিতীয় কাঠামোটিও শুলে নদীর উত্তরে অবস্থিত, এই কাঠামোটিকে দেখে মনে হচ্ছে দৈত্যকায় টার্গেট করবার গ্রিড।

আপনি যদি গুগল মানচিত্রে জুম করেন তাহলে দেখবেন যে বড় এক বৈদ্যুতিক স্টেশন অথবা রেডিও স্টেশন বলে মনে হচ্ছে তার পশ্চিম পার্শ্বে পরে রয়েছে কিছু যানবাহনের ধ্বংসাবশেষ। এই স্টেশনটি দেখতে অনেকটা আলাস্কার গ্যাকোনায় অবস্থিত হাই ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাকটিভ অরোরাল রিসার্চ প্রোগ্রামের (HAARP)মত। এই হার্প প্রোগ্রামটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, আলাস্কা বিশ্ববিদ্যালয় এবং দার্পার অর্থায়নে কার্যক্রম চালায়।

তৃতীয় ছবিতে দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার লাইন ১৮ মাইল লম্বা এক বিশাল গ্রিডকে ছেদ করে চলে গিয়েছে। আরেকটি টার্গেট করবার গ্রিড? দেখুন এখানে


প্রথমটির মত আরেকটি


এটি দেখে মনে হচ্ছে আরেকটি টার্গেট, তবে এর বিন্যাসটি একটু অন্যরকম, দেখে মনে হচ্ছে একে সাজানো হয়েছে র‍্যাডিক্যালি, প্লেন এবং ওবস্ট্যাকল ব্যবহার করে।

এখানে দেখা যাচ্ছে একটা অদ্ভুত ধরণের বিমান-বন্দরের মত একটা কাঠামো। কিন্তু কাঠামোটা অদ্ভুত উজ্জ্বল নীলাভ রঙ্গে রাঙ্গানো। এত উপর থেকে দেখে মনে হচ্ছে সম্পূর্ণটা হয়তোবা পানি দিয়ে ভরানো অথবা কোন অদ্ভুত পদার্থের সাহায্যে বানানো। এছাড়া পাশে দেখুন আরেকটি বিমান-বন্দরের মত অবকাঠামো। তাহলে কি আগেরটা ধোঁকা দেবার জন্য বানানো?

এখানে দেখা যাচ্ছে বিশাল এক কমপ্লেক্স, কমপক্ষে ১০ বাই ৫ মাইল। আপনি যদি গুগল মানচিত্রে জুম করেন তাহলে নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টে যে রকম থাকে সেরূপ দুটি কুলিং টাওয়ারও দেখতে পাবেন(নিচের ছবি)। এছাড়াও রয়েছে কয়েকটি পানি শোধন কেন্দ্র।

কি করছে চায়না এখানে? এ প্রশ্ন এখন সবার।

 সুত্রঃhttp://tech.priyo.com/news/internet/2011/11/15/826.html

Nov 6, 2011

বেডসোর বা শয্যাক্ষত রোগটির বিষয়ে কিছু তথ্য - আপনার পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের জন্য জেনে রাখুন

অনেক অসুখের বিষয়ে আমরা সামান্য কিছু জানলেই অনেক বড় বিপদ থেকে বাঁচা যায়। এই ধরণের একটি রোগের নাম বেডসোর বা শয্যাক্ষত। কিছুদনি ধরে শয্যাশায়ী হয়ে থাকলে রোগটি হতে পারে, যা মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

আমি ডাক্তার নই, তবে সম্প্রতি আব্বা প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে এই রোগটির সম্পর্কে কিছুটা জেনেছি। রোগটি সম্পর্কে ধারণা যদি আগে থাকতো, তাহলে আব্বার ভোগান্তি অনেকটা কমতো।

একটানা কিছুদিন শয্যাশায়ী থাকলে বেডসোর হতে পারে। শরীরের যে অংশ বিছানার সাথে লেগে থাকে সেই অংশে এই ধরণের ক্ষত হয়। বেডসোরের কয়েকটি পর্যায় রয়েছে।

প্রথম পর্যায়ে চামড়ার কিছু অংশ লালচে হয়ে যায়। ধীরে ধীরে তা কোনের আকারে বাড়তে থাকে। ত্বকের অংশে দেখা যায় অল্প স্থানে ক্ষত, কিন্তু ভিতরে ভিতরে আস্তে আস্তে তা হাড় পর্যন্ত পৌছে যায় এবং অনেক খানি জুড়ে ক্ষত হয়ে যায়।





বেডসোরের ক্ষত হাড় পর্যন্ত পৌছে যাওয়া খুব মারাত্মক, এতে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

আগে থেকে সতর্ক হলে খুব সহজে বেডসোর প্রতিরোধ করা যায়।

সবথেকে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা হচ্ছে (pneumatic bed) বায়ুপূর্ণ বিছানা । এই বিছানাতে একটি মোটরের সাহায্যে বিছানা আকৃতির রাবারের থলিতে বায়ু প্রবাহিত করা হয়, তাতে অনেক সেল থাকে, ফলে শরীরের একই স্থান বেশীক্ষণ বিছানার সাথে লেগে থাকে না।

শুরুর দিকে ধরা পড়লে এন্টি ডিউডার্ম ব্যান্ডেজ লাগালে সেরে যায়। সাথে অবশ্য pneumatic bed দিতে হবে এবং রোগী যাতে একই পাশে বেশীক্ষণ না শুয়ে থাকে তার ব্যবস্থা করতে হবে।

ক্ষত বেড়ে গেলে নিয়মিত ড্রেসিং করতে হবে।

এ ধরণের রোগীকে অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে হবে।

এ বিষয়ে ডাক্তার ব্লগারদের নিকট থেকে আরো বিস্তারিত জানার আশা রাখি।

মূল লিঙ্কঃ http://www.sonarbangladesh.com/blog/mohaimen/63204

ঘরের একমাত্র পূত্র হওয়ায় আমার দুঃখসমূহ

আব্বাহুজুর জীবিকার তাগিদে ঢাকার বাহিরে থাকেন।

এই মদনকুমার বাড়ির একমাত্র পূত্র এবং বাড়িতে বর্তমানে আমি এখন একমাত্র পুরুষ। আব্বাহুজুর ৭দিন/ ১৪ দিন পর পর ২/৩ দিন বাড়িতে থাকা ছাড়া অন্য সময় গৃহের যাবতীয় দায়িত্বভার (!!!) এই মদনঠাকুরের উপর ন্যস্ত কিংবা বলা চলে কলুর বলদ এর উপর ন্যস্ত।

চলে আসা যাক শিরোনামের ব্যস্তকরনে-
ঘরের একমাত্র পূত্র হওয়ায় (কিংবা বর্তমানে একমাত্র পুরুষ) আমার দুঃখসমূহ কি কি -

১। খোদার ৩০ টা দিন ঝড়, রৈদ, বৃষ্টি থাক - গো টু বাজার। বাজারে যাওয়ার আগে আম্মাহুজরাইন দিবেন এক লিস্টি, বহেনাজি একখানা, ভাগিনা বড়টা একখানা, আসল বাজার লিস্টি একখানা। আর বাজার করে আসার পথে প্রায়েই ভাবতে বসি, মা-দুগ্গার লাহান আমার কয়েকটা হাত থাকলে কি হইতো ?

২। বাসায় ২খানা টিভি থাকার পরও কোনদিন শান্তিমতো কোন মুভি বা খেলা বা নিজের পছন্দের কোন প্রোগ্রাম দেখতে পারছি বলে মনে পড়ে না। আমি টিভির সামনে বসতে গেলেই হয় আম্মাহুজরাইনের কাজের মেয়েসহকারে বাংলা ছিঃনেমা, নাইলে আফামনির হিন্দি সিরিয়াল নাইলে ভাগিনার কার্টুন। টিভির সামনে যাওয়া দূরের থাকুক, রিমোটই হাতে নেয়া বিরাট সাহসের কাজ। ( নাইলে কি আর এই ইন্ডিয়া-পাকিস্তান বিগ ম্যাচ এর সময় বইসা বইসা ব্লগাই ??? )


৩। রাইত নাই-দিন নাই-বিকাল নাই-সকাল নাই, যখন যার যা খুশি ব্যাঙ এর মাখা, শিয়ালের ল্যাজ, মোবাইলের কার্ড, পান-সুপারী-জর্দা, ভাইগনার এই মুহূর্তের অর্ডার চিপ্স, চকোলেট, ভাগিনীর ডায়াপার, সেরেলাক ইত্যাদি দরকার হইলে ১০ বার গিয়া হইলেও আমারে-ই আনতে হবে।

৪। মজা মাইরা কোন মুভি দেখতাছি, নাইলে ব্যাপক ভালো ছাত্রের মতো পরীক্ষার আগের দিন পড়তাছি, লাভ নাই মদনঠাকুর.... আগে হ্যাপা মিটাও।

৫। আরামের ঘুম?? বাড়িতে নারায়ন। পুরা হারাম। আপ্যায়ন ব্যবস্থা কর।

৬। কোথাও বেড়াইতে যামু ??? নো ওয়ে। তুমি বেড়াইতে গেলে ঘরে থাকবো কে ?? বন্ধুরা মজায় ট্যুর মাইরা বেড়ায়, আর আমি ভার্সিটি পিকনিক দূর কি বাত্ মিরপুর গিয়া খেলাও দেখতে পারি না।

৭। নো প্রেম, নো গার্লফ্রেন্ড। তোমার আব্বাহুজুর টাইম মতো দেইখ্যা শুইন্যা ধুমধামের সহিত শুভ কর্ম সমাধা করিবেন। নো টেনশন।

৮। নো এক্সট্রা খরচ। ভবিষ্যতের সঙ-সার তোমারই ঘাড়ে। এখন থেকে মিতব্যয়ী হও। একটা সানগ্লাস কিনমু, তা-ও পারতাছি না।

৯। বাসা ভর্তি বালিকা স্বর্গ...... আমি আমার ঘরে একলা মাছি মারি। তাদের ধারে-কাছে নো এন্ট্রি।

১০। সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে থাকা নিষেধ। ভাইগ্নারে পড়তে বসাও।X((

১১। ইচ্ছা থাকুক, আর না-ই থাকুক, সামাজিক আচার মিটাও। হায়রে, এক মাইয়ার লগে ডেটিং টাইম ফিক্স কইরাও এই হ্যাপা চোটে যাইতে পারি নাই। বাকি ঘটনার বর্ণনা নিঃপ্রয়োজন।X(
ইত্যাদি .................... ইত্যাদি .................... ইত্যাদি .................... ইত্যাদি .................... ইত্যাদি .................... ইত্যাদি ....................

নিত্য সঙ-সারের এই হ্যাপায় এই যুবক বয়সে আমি শ্যাষ.........:((
বিয়ার পর যে কি হইবো, আল্লাহ্ ই জানেন.... তিনিই জানেন আমার কপালে তিনি আর কি কি লিখে রেখেছেন??:|

মূল লিঙ্কঃ http://www.somewhereinblog.net/blog/sks006/29353810

Nov 5, 2011

চারটি ছবির গল্প

ফটোগ্রাফির এনালেটিক্যাল কিংবা থিওরেটিক্যাল ব্যাপারগুলো খুব একটা না বুঝলেও এটা বোঝা কঠিন নয় যে, একটি ফটোগ্রাফ দর্শকের মগজে একটা গল্প তৈরি করে দেয় । একটা সময়ের গল্প, একটা মুহূর্তের গল্প, কখনও একটা জীবনের গল্প ।
একটি ফটোগ্রাফে কি ছবি তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে কিংবা পর মুহূর্তে কী ঘটেছিল তা জানা যায়? ফটোগ্রাফ কি ম্যানিপুলেট করা যায় না ? তবু সাধারণ মানুষের ধারণা, ছবি মিথ্যা বলে না! ফটোগ্রাফির শুরু হয়েছিল ১৮৩০ সালের দিকে , এবং সেই থেকে বদলে গেল মানুষের চোখে পৃথিবীকে দেখা! থেমে থাকা মুহূর্ত হয়েও একটি ফটোগ্রাফ মানুষের মগজে যুগের পর যুগ চলতে থাকে, তাই বিশ কিংবা তিরিশ বছর পরেও, এ্যালবামের পাতা উল্টালে নস্টালজিক মানুষ ফিরে যায় অতীতে, স্পর্শ করে ঘটনাটিকে । বুকের ভেতরটা হুহু করে উঠে ।

ফটোগ্রাফ শুধু ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণেই নয়, সাংবাদিকতারও একটা অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে আজ । ফটোগ্রাফ যেকোনো রিপোর্টের অক্ষরগুলোকে নিয়ে যায় আরেক মাত্রায়। রিপোর্টের বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়ে যায় অনেক যখন পাঠক একটা ছবিও দেখে ভাষ্যের সাথে । কে না জানে; “Seeing is believing”।
১৯৯০ এর দশকে ডিজিটাল প্রযুক্তি এসে বদলে দেয় পুরো প্রেস ফটোগ্রাফি । ফিল্ম ক্যামেরার মতো সময় সাপেক্ষ প্রসেসিং নেই, তাই মুহূর্তেই পৌঁছে যায় ছবি পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে । বিভিন্ন সেন্সর সাইজের নানান রকমের ক্যামেরা নিয়ে বাজারে উপস্থিত হোল হ্যাসেলব্লাড, লেইকা, নাইকন, ক্যানন, মামিয়া, পেনট্যাক্স আর সনি । ২০০০ এর দশকে এসে “SLR” এর জায়গা করে নেয় “dSLR”, যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে সাংবাদিকতায়। বিশ বছর আগে ডার্ক রুম ছাড়া যেখানে কোন সংবাদপত্রের অফিস কল্পনাই করা যেত না, আজ সেখানে বড় বড় প্রতিষ্ঠানেও ডার্ক রুম নেই ।

আধুনিক ফটো-সাংবাদিকতার জনক বলা হয় হেনরি কার্টিয়ের ব্রেসোঁকে। ফ্রেঞ্চ ফটোগ্রাফার ব্রেসোঁর ছবি তোলার স্টাইলটি পরিচিত ছিল “স্ট্রিট ফটোগ্রাফি” নামে যা পরবর্তীতে বহু বিখ্যাত ফটোগ্রাফারের প্রেরণার উৎস। ব্রেসোঁর এক বিখ্যাত উক্তি – “To take photographs means to recognize – simultaneously and within a fraction of a second – both the fact itself and the rigorous organization of visually perceived forms that give it meaning. It is putting one’s head, one’s eye and one’s heart on the same axis”। ১৯৪৮ সালে গান্ধীর শেষকৃত্যের ছবি তুলে পুরো পৃথিবীতে সাড়া ফেলে দেন ব্রেসোঁ। এভাবেই শক্তিশালী ফটোগ্রাফ পুরো পৃথিবীকে নাড়িয়ে দেয়, জাগিয়ে তোলে ঘুমন্ত বিবেককে । এমনি কিছু ছবির গল্প বলবো এই লেখাতে ।
১৯৭২ সালের ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়কার একটি ছবি তুলে এ. পি.’র ফটোগ্রাফার নিক উট জিতে নেন পুলিত্জার পুরস্কার । ছবিটি ’৭২ সালে World Press Photo of the Yearও মনোনীত হয় । নিকের বিখ্যাত ছবির সেই মেয়েটি ছিল থি কিম ফুক । দক্ষিণ ভিয়েতনামের ত্রাং বাঙ গ্রামে থাকত ফুক । সেদিন ছিল ৮ই জুন, ১৯৭২ সাল । ৯ বছর বয়সী ফুক এবং আরো অনেকে পালিয়ে যাচ্ছিল নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে । শত্রু সৈন্য সন্দেহে ফুকের দলটির উপরে নাপাম বোম ফেলে এয়ার ফোর্স । মুহূর্তেই মারা যায় ফুকের দুই আত্মীয় এবং আরো দুই গ্রামবাসী । ফুকের পুরো শরীর পুড়ে যায়, উলঙ্গ হয়ে মেয়েটি দিগ্বিদিক ভুলে দৌড়াতে থাকে রাস্তায় । চিৎকার করতে থাকে, “নং কুয়া, নং কুয়া”(প্রচণ্ড গরম, প্রচণ্ড গরম)। ঠিক সেই মুহূর্তেই নিকের ক্যামেরার শাটার ক্লিক করে ওঠে, সৃষ্টি হয় এক ঐতিহাসিক ফটোগ্রাফের । ছবিটি মানবজাতিকে আরো একবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় রাজায়-রাজায় যুদ্ধে সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব । মজার ব্যাপার হলো, আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সন্দেহ ছিল এই ছবিটির সত্যতা নিয়ে! তিনি মনে করতেন ছবিটি বানোয়াট! যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে প্রেসিডেন্টরা চিরকালই বোধ হয় মগজহীন-হৃদয়হীন ব্যক্তিতে পরিণত হয়!
(ছবিটি দেখতে পারেন http://www.gallerym.com/work.cfm?ID=280 লিঙ্কে গিয়ে ।)
সময়টা ১৯৮৯ । স্টুয়ার্ট ফ্রাঙ্কলিনের একটি ছবি পৃথিবীর মুক্তিকামী মানুষের চেতনাকে স্পর্শ করে গভীরভাবে । শুরুটা হয়েছিল মাত্র তিন হাজার ছাত্রের অনশন দিয়ে । সাত সপ্তাহে সেটা পরিণত হয় লাখো মানুষের মুক্তি সংগ্রামে! স্থান তিয়েনান্ম্যাম স্কয়ার ; ট্যাঙ্কের পর ট্যাঙ্ক এগিয়ে আসছে ছাত্রদের দিকে । হঠাৎ একটি ছেলে দাড়িয়ে গেল ট্যাঙ্কের সামনে, একা, নিরস্ত্র, দৃঢ়, হাতে শুধু ছোট্ট দুটো ব্যাগ । ট্যাঙ্কের ভিতরে থাকা সৈন্য স্তম্ভিত । ছেলেটির প্রচণ্ড সাহসের কাছে নতজানু হয়ে সৈন্য তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যায় । বিশাল, ভয়ংকর ট্যাঙ্কের সামনে অটল দাড়িয়ে থাকা শীর্ণকায়, ছোটখাটো এই ছেলেটির ফটোগ্রাফ দেখে পুরো পৃথিবী চমকে যায় । বাজার ফেরত ছেলেটি কে ছিল আমাদের আজো জানা হয়নি, কিন্তু তার আকাংখার সাথে নিজেকে রিলেট করতে মোটেও অসুবিধা হয় না । মানুষের চিরকালের আকাংখা, মুক্তির আকাংখা । এর তীব্রতায় মানুষ যে মহামানবে পরিণত হয়, ফ্র্যাঙ্কলিনের এই ছবিতে তাই যেন আবার প্রমাণিত হয় ।

ছবিটি দেখতে পারেন http://www.worldsfamousphotos.com/index.php/2007/03/21/tiananmen-square-1989/ লিঙ্কে গিয়ে ।
কিছুদিন আগেই তিউনিসিয়ায় এক যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটে গেল । এক একটি ছবি দেখছিলাম আর মর্মে মর্মে অনুভব করছিলাম তিউনিসিয়ার বিপ্লবের উত্তাপ । ঐক্যবদ্ধ মানুষের শক্তির মত বিস্ময়কর আর কিছুই বোধ হয় নেই পৃথিবীতে ! চোখ আটকে যায় একটি ছবিতে । ছবিটি ইমেদ-এর বাসার লিভিং রুমের। দেখলে মনে হয় যেন যুদ্ধ ক্ষেত্র ! ছাদ ভেঙ্গে পরেছে, বিশাল পিলারগুলো বিধ্বস্ত, কোথাও কোন আসবাবপত্র অবশিষ্ট নেই। গনঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সাধারণ জনতার ব্যাপক লুণ্ঠনের শিকার হয় শাসক গোষ্ঠীর বিলাসবহুল ভিলাগুলো। ছবিটির পরতে পরতে জনতার ঘৃণা মূর্ত। পালিয়ে যাওয়া তিউনিসিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বেন আলীর স্ত্রী লায়লা ত্রাবেলসি । লায়লারই ভাগ্নে হলো ইমেদ । ২০০৬ সালে ৩ মিলিয়ন ডলারের একটি বিলাসবহুল ইয়ট হারিয়ে যায় কোর্সিকার কোস্ট থেকে । এক সপ্তাহ পরে ইয়টটি দেখা যায় তিউনিসিয়ার সমুদ্র সৈকতে, তাতে নতুন রংয়ের প্রলেপ । ধারণা করা হয়, ইমেদ ছিল এই ইয়ট হাইজ্যাকের পিছনে। ইমেদের দুর্ভাগ্য, ইয়টটির মালিক ফ্রেঞ্চ প্রেসিডেন্ট সারকোজির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ব্রুনো রজার । অতএব, এক লক্ষ ডলার দেয়া সত্ত্বেও ইয়টটি ইমেদের হজম করা হয় নি ।

আবার তার সৌভাগ্যও বটে যে বেন আলী, সারকোজির ঘনিষ্ঠ মিত্র । তাই ইমেদ আর তার ভাই ময়েজ ইন্টারপোলের লিস্টে থাকা সত্বেও তাদের বিরুদ্ধে কখনই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি । ইমেদ থেমে থাকে নি । থেমে থাকেনি ইতালি থেকে তার জন্য দামী সুট আসা । থামেনি দামী সিগার উপভোগ এবং ফ্রেঞ্চ ওয়াইন পান । প্রায়ই বিলাসবহুল, জাঁকজমক পার্টি হতো তার প্রাসাদোপম ভিলায় অথবা লা-গুলোতের একটি রেস্তোরাঁয় । এখানে জেনে রাখা ভালো, ইমেদ নিজেই ছিল লা-গুলোতের মেয়র । ইমেদের একটি দাতব্য সংস্থা ছিল; “নুর” তার নাম । “নুর” গরীব বাচ্চাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করত । অতি উত্তম! অবশ্য দুষ্টজনের (!) মুখে শোনা যায় অন্য কথা । “নুর” ছিল আসলে একটি আগাগোড়া চাঁদাবাজ সংস্থা । “নুর”কে ব্যবহার করে ইমেদ চাঁদা আদায় করত ধনী উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে ।
স্বৈরাচারী বেন আলী, তার ক্ষমতাধর স্ত্রী লায়লা এবং দুর্নীতির বরপুত্র ইমেদের প্রতি সাধারণ মানুষের তীব্র আক্রোশ শুধু তাদের ভিলা লুট করার মধ্যেই থেমে থাকে নি। বেন আলী ও তার পরিবার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও জানা যায়, গত ১৪ই জানুয়ারি, পালাতে গিয়ে তিউনিসিয়া বিমানবন্দরে ধরা পরে ইমেদ, এবং নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় তাকে।
প্রচুর সিনেমা দেখত ইমেদ । সহচরদের “গড ফাদার” সিনেমার একটি উক্তি প্রায়ই মনে করিয়ে দিত সে – “Never hate your enemies, it affects your judgement “!
ইমেদের বাসার লিভিং রুমের ছবিটি দেখতে পারেন http://www.newstimes.com/news/article/Tunisians-hail-fall-of-ex-leader-s-corrupt-family-961033.php লিংকে গিয়ে।
এবার অন্য একটি ছবির গল্প । ছবিটি জেতে নি কোনো পুরস্কার । ২০১১ সালের জানুয়ারি মাস । একটি ভারতীয়, দু-তিনটি বাংলাদেশী দৈনিক পত্রিকা আর কিছু অনলাইন সাইটে একটি ফটোগ্রাফ দেখা গেল । কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলছে পনের বছরের এক কিশোরীর প্রাণহীন শরীর । পরনে তার উজ্জ্বল লাল-নীল জামা । কাছেই এক সৈন্য দাঁড়ানো । জানা গেল, ছবির সেই মেয়েটির নাম ফেলানি । বর্ডার পার হয়ে, বছর দশেক আগে সে দিল্লি গিয়েছিল তার পরিবারের সাথে । বোধ হয়, মঙ্গা থেকে বাঁচতে ! দিল্লিতে ফেলানি ইট ভাঙত । কিছুদিন আগে ফেলানির বাবার হঠাৎ উপলব্ধি “মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে”! মেয়েকে নিয়ে মোহাম্মদ নূর ইসলাম ফিরছিল বাংলাদেশে । কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে যায় নূর ইসলাম । দুরুদুরু বুকে ফেলানি বেড়ায় ওঠে , হঠাৎ কাঁটাতারে আটকে যায় ওর লাল-নীল জামা । ভয়ে চিৎকার করে উঠে । সঙ্গে সঙ্গে বি.এস.এফ.-এর গুলি। জানা যায়, গুলি লাগার পরেও চার ঘণ্টা বেঁচে ছিল ফেলানি । যেভাবে বৈদ্যুতিক তারে শক খেয়ে ঝুলতে থাকে দাঁড় কাক, একইভাবে ফেলানি ঝুলছিল আর পানি, পানি করে চিৎকার করছিল । ফেলানিকে নিয়ে কোনো গল্প লেখা হবে না কিংবা বেলি রোডের নাটকপাড়ায় ফেলানি হবে না কোনো চরিত্র । সঞ্জীব চৌধুরী বেঁচে থাকলে হয়তোবা লিখতেন আরেকটি গান – “আহ ফেলানি” !

(বাংলাদেশ পুলিশের হাতে ধর্ষিত এবং নিহত ইয়াসমিনকে নিয়ে ১৯৯৬-এ সঞ্জীব লিখেছিলেন- “আহ ইয়াসমিন”, গানটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল)
জানা হয় নি ফেলানির এই ছবিটির ফটোগ্রাফার কে ছিলেন । তবে আমার ধারণা, ছবিটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে পুলিত্জার না হলেও, ছোটখাটো পুরস্কার বোধ হয় ঠিকই জিততেন ফটোগ্রাফার ভদ্রলোক । কেনইবা নয়? দারিদ্র্য, মৃত্যু, নো ম্যানস ল্যান্ড , এ সবকিছুই তো ফটোগ্রাফির চমৎকার সব সাবজেক্ট ! কাঁটাতারের বেড়ায় যখন মেয়েটির প্রাণহীন শরীরটা ঝুলছিল, একটি বিখ্যাত আলোকচিত্রের কি জন্ম হচ্ছিল ? ভারতের বন্ধুত্ব, বাংলাদেশের কৃতজ্ঞতা, সরকারের ভূমিকা, বাংলাদেশী বুদ্ধিজীবীদের নীরবতা, কি করা যেতে পারে কিংবা কি করা যেতে পারত—সবকিছু ছাপিয়ে ছবির সেই মেয়েটির প্রাণহীন দেহের একমাত্র অভিমানী উচ্চারণ – “একটি পাসপোর্টের জন্য?” নাকি “দারিদ্র্যই অভিশাপ” ?

একটি ফটোগ্রাফ একটি সময়কে ধারণ করে । ভিয়েতনামের রাস্তায় পুড়ে যাওয়া শরীর নিয়ে ফুকের ছুটে যাওয়া আমাদের চাক্ষুষ করা হয় নি , শোনা হয় নি তার চিৎকার ” খুব গরম, খুব গরম”- , তবু ছবিটি দেখলে চলে যেতে হয় ফুকের পাশে, তার শরীরের পুড়ে যাওয়া ক্ষত যেন আমাদের স্পর্শ করে । এখানেই একটি শক্তিশালী ফটোগ্রাফের ক্ষমতা । একেকটা ছবি, একেকটা ইতিহাস ।
আর আমাদের ছবির সেই মেয়েটি, একান্তই আমাদের ফেলানি, সেও হয়ে যায় ইতিহাস ।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার – ফাহাম আব্দুস সালাম, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ফটোগ্রাফি সম্পর্কিত টেকনিকাল তথ্যগুলোর জন্য) ; Newsweek এর ৩১শে জানুয়ারি, ২০১১ সংখ্যা (তিউনিসিয়ার বিপ্লব সম্পর্কিত তথ্যের জন্য); আনন্দবাজার পত্রিকার ৮ই জানুয়ারি, ২০১১ সংখ্যা (ফেলানির ছবিটির জন্য); বিভিন্ন ফটোগ্রাফি সাইট।
শামারুহ মির্জা :শিক্ষক ও গবেষক।